February 4, 2026

ভোটার তালিকায় কারচুপি: চার বিসিএস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

নথি ছাড়াই শতাধিক ভোটারের নাম সংযোজনের অভিযোগ, কড়া বার্তা কমিশনের

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। অবশেষে ভোটার তালিকায় গুরুতর অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের চারজন বিসিএস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কোনও বৈধ নথি ছাড়াই শয়ে শয়ে ভোটারের নাম তালিকায় সংযোজনের অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ২রা জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র (AC No. 137) এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্র (AC No. 206)-এ ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় গুরুতর নিয়মভঙ্গ করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত আধিকারিকরা হলেন—দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, WBSC (Executive), ২০১২ ব্যাচ, বারুইপুর পূর্বের ইআরও তথাগত মণ্ডল, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার, MGNREGS ও AERO, বারুইপুর পূর্ব বিপ্লব সরকার, WBSC (Executive), ২০১২ ব্যাচ, ময়না বিধানসভার ইআরও সুদীপ্ত দাস, পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্টস ও অডিট অফিসার এবং AERO, ময়না এছাড়াও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার-এর নামও তদন্তের আওতায় এসেছে। আগেই সাসপেনশন, এবার এফআইআর, নির্বাচন কমিশন জানায়, এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আগেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২০শে আগস্ট ২০২৫ তারিখে সাসপেনশন কার্যকর করা হয়। তবে কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত লগইন তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা নীতির চরম লঙ্ঘন। কোন আইনে মামলা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে—জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ৩২,ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩,এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০অনুযায়ী অবিলম্বে এফআইআর রুজু করতে হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO, West Bengal) সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তার রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। SIR চলাকালীন কড়া সতর্কবার্তা বর্তমানে রাজ্যে SIR (Special Intensive Revision) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। কমিশনের কড়া বার্তা—“ভুল বা ভুয়ো নথির ভিত্তিতে ভোটারের নাম সংযোজন বা বিয়োজন করলে কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপনির্বাচন কমিশনের মতে,“শুদ্ধ ভোটার তালিকা ছাড়া অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”ভোটার তালিকায় সামান্য অনিয়মও গণতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যতে কোনও আধিকারিক যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন বা রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যএই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, এবার তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে জেলাস্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে।ভোটার তালিকার পবিত্রতা রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের একাংশের গাফিলতি যে আর বরদাস্ত করা হবে না, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল কমিশন।

Loading