সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বিশ্বাসের শক্তি কতটা গভীর হলে একজন মানুষ নিজের শরীর, আরাম ও নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—তারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন আরামবাগ পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ ঘোষ।
গত বছর ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর আরামবাগ থেকে গুজরাটের সোমনাথ মন্দির দর্শনের লক্ষ্যে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন তিনি। মোট প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথ সম্পূর্ণটাই তিনি হেঁটেই অতিক্রম করবেন। আমাদের সঙ্গে কথোপকথনে বিশ্বজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি ঝাড়খণ্ড ও বিহার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মাঝামাঝি কোনও এক স্থানে অবস্থান করছেন।
এই দীর্ঘ যাত্রা শুধু হাঁটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতি ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর তিনি ২০ মিটার করে দণ্ডী কাটবেন—এক গভীর সাধনা, এক আত্মনিবেদন। সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁরই এক পরিচিত ভাই, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর পাশে থাকছেন।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি পৌঁছাবেন গুজরাটের প্রভাস পাটনে অবস্থিত হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সোমনাথ মন্দিরে। পথে তিনি কেবল সোমনাথেই নয়, বিশ্বনাথ ধাম, সংকটমোচন, উজ্জয়িনীর মতো একাধিক তীর্থক্ষেত্র দর্শন করবেন। গুজরাটে গিয়ে তিনি ২ ২ টি বৃক্ষ রোপন করবেন,প্রতিটি বৃক্ষ রোপনের বিশেষ নাম থাকবে।
বিশ্বজিৎ ঘোষ জানিয়েছেন, এই পায়ে হেঁটে যাত্রা ও দণ্ডী কাটার উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নয়। তাঁর এই সাধনা উৎসর্গিত—
পশ্চিমবঙ্গের খেটে খাওয়া, সৎ পথে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য,
নিজের দলের নেতৃত্ব ও কর্মীদের জন্য,
তিনি যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর—সেই ওয়ার্ডের মানুষের জন্য,
সনাতনী হিন্দু সমাজের জন্য,
দেশের সীমান্তে, জল, স্থল ও আকাশপথে সদা জাগ্রত ভারতীয় সেনাদের জন্য,
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ—মিডিয়ার জন্য,
এবং সর্বোপরি আপামর দেশবাসীর মঙ্গল কামনায়।
এই যাত্রার পেছনে রয়েছে এক গভীর ব্যক্তিগত শোকও। এক বছর আগে বিশ্বজিৎ ঘোষের মাতৃবিয়োগ ঘটে। সেই সময় এই যাত্রা শুরু করার মানসিক শক্তি তিনি পাননি। মায়ের স্মৃতি, আশীর্বাদ ও আত্মার শান্তির জন্যই এক বছর পরে এই সংকল্পে দৃঢ় হন তিনি।
কোনও বড় সংগঠন বা আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা নয়—শুধু মনের জোর, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং কিছু নিকট আত্মীয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় শুরু হয়েছে এই যাত্রা। পথে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও থেমে যাননি তিনি।
এই দীর্ঘ পথে সাধারণ মানুষই হয়ে উঠেছেন তাঁর আসল শক্তি। কোথাও হোটেলে, কোথাও ধর্মশালায়, কখনও আবার রাস্তার ধাবায় কাটছে রাত। বহু মানুষ স্বেচ্ছায় তাঁকে খাবার খাইয়েছেন, জল দিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন। শরীর সুস্থ রাখতে বেশিরভাগ সময় নিজেই রান্না করে খাচ্ছেন তিনি।
বিশ্বজিৎ ঘোষের এই অভিনব ও কষ্টসাধ্য যাত্রা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পথে পথে অচেনা মানুষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
ধর্মের প্রতি কতটা আস্থা, শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদন থাকলে একজন মানুষ এমন দুঃসাহসিক পদযাত্রায় নামতে পারেন—তা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিশ্বজিৎ ঘোষের এই যাত্রা। বিশ্বাস, শোক ও সংকল্পের এই পথচলা আজ শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত সাধনা নয়, তা হয়ে উঠেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।






![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত