February 4, 2026

দেশের ১৭ রাজ্যে ফলনের উপযুক্ত নতুন ধান

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনে কৃষিতে আশার আলো

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ওঠানামার মধ্যেও কৃষিতে উৎপাদন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন ধানের জাত ‘মঙ্গলা বিধান–২৪’ বর্তমানে দেশের ১৭টি রাজ্যে চাষের জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার পর এই ধানের জাতটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত অবস্থায় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, খারিফ ও বোরো—দু’টি মরশুমেই এই ধান সমানভাবে ফলন দিতে সক্ষম।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলা বিধান–২৪ ধান মাত্র ১২০ দিনের মধ্যেই ফলনযোগ্য হয়ে ওঠে। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৬ থেকে ৮ টন, যা অনেক প্রচলিত জাতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পরীক্ষামূলক চাষে কোথাও কোথাও এর থেকেও বেশি ফলন পাওয়া গেছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

এই ধানের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল—এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। পাতাঝলসা, ব্লাস্টের মতো রোগ এবং মাজরা পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম হয়। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে চাষের খরচও হ্রাস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাঝারি উচ্চতার হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি বা জল জমলে ধান হেলে পড়ার আশঙ্কাও কম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কৃষিবিজ্ঞানী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে কম সময়ে ফলনযোগ্য ও সহনশীল ধানের জাতের প্রয়োজন বাড়বে। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলা বিধান–২৪ উদ্ভাবন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরীক্ষার পর এই ধান কৃষকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নদীয়া জেলার একাধিক ব্লকে কৃষকেরা ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ধান চাষ করে সন্তোষজনক ফল পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই আগামী মরশুমে বৃহত্তর পরিসরে এই ধান চাষে আগ্রহী।

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ধাপে ধাপে এই ধানের বীজ উৎপাদন বাড়িয়ে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্ভাবন শুধু নদীয়া নয়, গোটা দেশের ধানচাষিদের জন্যই এক নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে।

Loading