February 14, 2026

Oplus_16908320

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি—পরামর্শ এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডাক্তার শুভাশিস নিয়োগির

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ বর্তমান সময়ে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর রোগ হিসেবে ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও রোগীদের পরিচর্যা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. শুভাশিস নিয়োগি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।ডা. নিয়োগির মতে, যাদের পরিবারে আগে থেকে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ছোটবেলা থেকেই সচেতন হওয়া দরকার এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বর্তমানে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়মিত জীবনধারার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই সাধারণভাবে ৩৫ বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেকের নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। কারণ যেকোনো ব্যক্তিরই ডায়াবেটিস হতে পারে।ডায়াবেটিসের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে বারবার প্রস্রাব হওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ইউরিন ইনফেকশন, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি যাদের শরীরের ওজন বেশি, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বেশি থাকে কিংবা গর্ভাবস্থায় সুগার বেড়েছিল—তাদের বিশেষভাবে নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফাস্টিং ব্লাড সুগার টেস্ট অন্তত ৮ ঘণ্টা উপবাসের পর করা উচিত। খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর পোস্ট প্রান্ডিয়াল (PP) টেস্ট করা হয়। এর পাশাপাশি HbA1c, Urine Albumin-Creatinine Ratio (UACR), চোখের রেটিনা পরীক্ষা নিয়মিত করালে রোগের জটিলতা অনেকটাই আগে থেকে ধরা যায় এবং নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।চিকিৎসার ক্ষেত্রে টাইপ টু ডায়াবেটিসে অধিকাংশ সময় নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুগারের মাত্রা বেশি হলে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে ইনসুলিনই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা।নতুন প্রজন্মের ওষুধ ‘সেমাগ্লুটাইড’ এখন ট্যাবলেট ও ইনজেকশন—দুই রূপেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ওষুধ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা রক্ষায়ও সহায়ক বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তবে এর দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। ভবিষ্যতে পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হলে এই ওষুধের দাম কমতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট, অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনি ও ভাজাভুজি খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। পরিবর্তে বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে একেবারে খাবার বাদ না দিয়ে পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার খাওয়ার অভ্যাস (টাইম-রেস্ট্রিক্টেড ইটিং) করা যেতে পারে, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা অনুসরণ করাই শ্রেয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস কোনও একদিনের রোগ নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়।

Oplus_16908320

Loading