February 28, 2026

আজ জাতীয় বিজ্ঞান দিবস – বিজ্ঞানের জাদুতে মুগ্ধ ভারত

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ আজ ২৮শে ফেব্রুয়ারি, সমগ্র দেশজুড়ে সগৌরবে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় বিজ্ঞান দিবস’ (National Science Day)। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের অপরিসীম গুরুত্ব এবং অবদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই প্রতি বছর এই দিনটি মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়।১৯২১ সালের কথা। সি. ভি. রামন লন্ডন থেকে বোম্বে (এখনকার মুম্বই) ফিরছিলেন এস.এস. নারকুন্ডা (SS Narkunda) নামের একটি জাহাজে করে। ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea) পার হওয়ার সময় সমুদ্রের গাঢ় নীল জল দেখে তাঁর মনে গভীর কৌতূহল জাগে। এক গ্লাস জলের তো কোনো রং নেই, তাহলে সমুদ্রের এত জল নীল দেখায় কেন?তৎকালীন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী লর্ড রেলে (Lord Rayleigh) ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, সমুদ্রের নীল রং আসলে আকাশের নীল রঙের প্রতিফলন। কিন্তু রামন এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে। তিনি জাহাজের ডেকের ওপর বসেই নিজের সাথে থাকা সাধারণ কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি (যেমন—একটি প্রিজম ও পকেট স্পেকট্রোস্কোপ) দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। ভারতে ফিরে তিনি এই বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা চালান। দীর্ঘ সাত বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯২৮ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তিনি প্রমাণ করেন যে, সমুদ্রের নীল রং আকাশের প্রতিফলন নয়; বরং জলের অণুর দ্বারা সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণের (scattering) কারণেই সমুদ্রকে নীল দেখায়। আলোর এই বিচ্ছুরণের প্রক্রিয়াই পরে বিশ্বজুড়ে ‘রামন এফেক্ট’ নামে পরিচিতি পায়।

কেন এই দিনটি এত বিশেষ? ১৯২৮ সালের ঠিক আজকের দিনেই ভারতের প্রখ্যাত পদার্থবিদ স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন (C.V. Raman) তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘রামন এফেক্ট’ (Raman Effect)-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই অসামান্য আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৩০ সালে তিনি পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম ভারতীয় তথা এশীয় হিসেবে বিজ্ঞানে নোবেল জয় ছিল সমগ্র দেশের জন্য এক অভাবনীয় গর্বের মুহূর্ত।’রামন এফেক্ট’ আসলে কী?খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের (যেমন তরল, গ্যাস বা কাঁচ) মধ্যে দিয়ে আলোর রশ্মি পার হয়, তখন সেই আলোর কিছু অংশ বিচ্ছুরিত হয় এবং তার রঙের বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (wavelength) পরিবর্তন ঘটে। আলোর এই অদ্ভুত আচরণকেই ‘রামন এফেক্ট’ বলা হয়। এই আবিষ্কারের ফলে পদার্থের আণবিক গঠন বোঝা অনেক সহজ হয়ে যায়। আজকের দিনে চিকিৎসাবিজ্ঞান, ঔষধশিল্প থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণার নানা জটিল ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার আজও পথ দেখাচ্ছে।বিজ্ঞান শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় বা গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের চারপাশের প্রতিটি ঘটনার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। আজকের এই বিশেষ দিনে দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নানা বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও কুইজের আয়োজন করা হয়, যাতে আগামী প্রজন্ম বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে ওঠে।

Loading