রেলগেটের অপেক্ষার অবসান, আন্ডারপাসে বাড়ছে নিরাপত্তা ও স্বস্তি

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটতে চলেছে। ট্রেন আসার আগেই রেলগেট নেমে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, আর সেই সুযোগে অসচেতনভাবে গেটের নিচ দিয়ে পারাপার—এই চেনা ছবিই বদলাতে চলেছে এবার। গোঘাটের ভিকদাস–বলরামপুর সংলগ্ন রেলক্রসিংয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক আন্ডারপাস, যা পথচারী ও যানবাহনের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, গেট পড়ে গেলে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে তাড়াহুড়ো করে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার করতেন, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। গেটম্যানদেরও সবসময় সতর্ক থাকতে হত এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হতো। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে চলেছে। রেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই আন্ডারপাস প্রায় শেষ পর্যায়ে। উপরের কাঠামো সম্পূর্ণ, বর্তমানে টিনের ছাউনি দেওয়ার কাজ চলছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আন্ডারপাস চালু হলে আর রেলগেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ট্রেন চলাচলের সময়ও নির্বিঘ্নে নিচ দিয়ে পথচারী ও যানবাহন পারাপার করতে পারবেন। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আন্ডারপাসে জল জমার সমস্যার সমাধানেও আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিচে জল জমলে তা দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক পাম্পিং স্টেশন, যা জমা জল উপরে তুলে দেবে। ফলে বর্ষাকালেও পারাপারে কোনো সমস্যা হবে না। রেলকর্মীদের মতে, আগে যেখানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গেট পরিচালনা এবং সিগন্যালিংয়ের জন্য আলাদা করে যোগাযোগ রাখতে হত, সেখানে এই ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন পুরো ব্যবস্থাকেই সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে। শুধু গোঘাট নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক রেলক্রসিংয়েও একই উদ্যোগ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে, যাতে সর্বত্রই নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের আশা, এই আন্ডারপাসগুলি চালু হলে প্রতিদিনের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে। নিরাপত্তা, সময় সাশ্রয় এবং স্বাচ্ছন্দ্য—সবদিক থেকেই এটি হবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

Oplus_16908288

Loading