সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: গ্রামবাংলা জুড়ে ক্রমেই গভীর হচ্ছে কৃষকদের সংকট। যেভাবে রাসায়নিক সারের দাম লাগামছাড়া বেড়ে চলেছে এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কালোবাজারি, তাতে কার্যত দিশেহারা চাষিরা। একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ন্যায্য দাম মিলছে না—এই দুইয়ের চাপে চাষিরা আজ প্রায় অস্তিত্বের লড়াইয়ে নেমেছে। অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত এমআরপি থাকা সত্ত্বেও অনেক সার বিক্রেতা প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নিচ্ছে, যা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। অথচ এই অনিয়ম রুখতে কার্যকরী নজরদারি প্রায় নেই বললেই চলে।
সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে চাষিদের নির্ভরশীলতার কারণে। অধিকাংশ ছোট ও প্রান্তিক কৃষক নগদের অভাবে ধারে সার ও কীটনাশক কিনতে বাধ্য হন। পরে সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে নিজের উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ কম দামে ওই ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রি করতে হয়। ফলে এক ধরনের দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, “সার না নিলে চাষ হবে না, আর সার নিতে গেলেই বেশি দাম দিতে হচ্ছে—এই অবস্থায় আমরা কোথায় যাব?”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এখন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সারের বিক্রি হলেও বাস্তবে তাতেও রক্ষা মিলছে না। অভিযোগ উঠছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অজান্তেই তাদের হাতের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে কালোবাজারি চালাচ্ছে। অর্থাৎ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও তার অপব্যবহারই বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা টানছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন প্রতিটি পরিবার নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য বরাদ্দ পায় এবং তা আগাম মোবাইলে মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হয়, তেমন ব্যবস্থা সারের ক্ষেত্রে নেই। কোন কৃষক কতটা সার পাবেন, তার জমির পরিমাণ অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ বা পূর্ব-নির্ধারিত তথ্য নেই। এই অস্বচ্ছতাই কালোবাজারির মূল সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি কৃষকের জন্য আলাদা রেশন কার্ডের মত “সার কার্ড” চালু করা উচিত, যেখানে জমির পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকবে এবং তা আগাম মোবাইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে কালোবাজারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
এদিকে সারের দাম গত এক দশকে কতটা বেড়েছে, তা জানার জন্য আরটিআই করেছেন কামারপুকুরের ‘রেল চাই’ পক্ষের কর্মী রাকেশ মালিক। ইতিমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ বলছেন কঠোর নজরদারি দরকার, কেউ আবার সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তুলছেন।
সব মিলিয়ে চিত্রটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষিই যেখানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, সেখানে কৃষকদের এমন দুরবস্থা ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসে এবং চাষিদের এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে কী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

![]()

More Stories
ভোটের আগে কড়া নজরদারি: বডি ক্যামেরাসহ প্রযুক্তির বাড়তি ব্যবহার নির্বাচন কমিশনের
বন্ধে যোগ দেওয়া সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়: হাইকোর্ট
আদর্শের কাছে প্রাপ্তি তুচ্ছ: পেনশন নিলেন না কমরেড বিকাশরঞ্জন