⚡ দহিয়াকাঁন্দা–শাওড়া সীমান্তে হাই টেনশন লাইনের নীচে ‘ইলেকট্রিক শক’ আতঙ্ক

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ গোঘাট থানার অন্তর্গত দহিয়াকাঁন্দা ও শাওড়া সংযোগকারী সীমান্ত এলাকায় হাই টেনশন বৈদ্যুতিক লাইনের নীচে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কৃষিজমি ও প্রধান পিচ রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া এই লাইনের নীচে দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও বাইকচালকরা নিয়মিত ‘ইলেকট্রিক শক’ অনুভব করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু রাস্তা পারাপার নয়—চাষের কাজ করতে গিয়েও এই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ধাতব জিনিস হাতে থাকলে বা সাইকেল-বাইকের ধাতব অংশে স্পর্শ করলেই তীব্র শক অনুভূত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাল্টিমিটার দিয়ে পরীক্ষা করি। পরীক্ষায় এসি ভোল্টেজ প্রায় ৩০ ভোল্ট এবং কারেন্ট রিডিং প্রায় ৮ অ্যাম্পিয়ার পাওয়া যায়, যা সাধারণ  খোলা পরিবেশে এ ধরনের লিকেজ  ভোল্টেজ গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এলাকার বহু বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সকলেই এই শকের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাটি চলেছে। এক বাসিন্দার কথায়, “রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলেও হঠাৎ করে শক লাগে, ভয় পেয়ে যাই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই টেনশন লাইনের আশেপাশে শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। যদি লাইনের উচ্চতা কম হয় বা যথাযথ ইনসুলেশন ও গ্রাউন্ডিং না থাকে, তাহলে আশেপাশের ধাতব বস্তুতে লিকেজ ভোল্টেজ তৈরি হতে পারে।

এর ফলে মানুষ বা যানবাহন সেই ধাতব অংশ স্পর্শ করলে শক অনুভব করতে পারেন।

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন—

* মাটি থেকে হাই টেনশন লাইনের উচ্চতা বৃদ্ধি

* আধুনিক গ্রাউন্ডিং সিস্টেম স্থাপন

* সুরক্ষা জালি বা ইনসুলেশন ব্যবস্থা

* নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ

এই বিষয়ে ভিকদাস সাবস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সামন্তবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে হাই টেনশন লাইনের অভিজ্ঞ কন্ট্রাক্টর সুনীল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি বিদ্যুৎ দপ্তরের নজরে আনবেন এবং দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিদিনের যাতায়াত থেকে শুরু করে চাষবাস—সব ক্ষেত্রেই এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এখন দেখার, প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তর কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে কতটা সুরাহা দিতে পারে।

Loading