সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি ও দুগ্ধ শিল্পে নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে বড় বিনিয়োগ। বাংলার সম্ভাবনার উপর আস্থা রেখে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চলেছে আমুল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক ও দুগ্ধ চাষীদের আয় বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দুগ্ধ শিল্পকে আরও উন্নত করা। একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, “হোয়াইট রেভলিউশন” বা শ্বেত বিপ্লব শুধুমাত্র দুধ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষক, গৃহপালিত পশুপালন, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিস্তৃত পরিকাঠামো। ফলে এই বিনিয়োগের সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রামের মানুষের জীবিকা ও আর্থিক অবস্থার উপর। এই আধুনিক দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং দুধের অপচয়ও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের বৃহৎ বিনিয়োগ রাজ্যের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেবে। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও দুগ্ধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের দাবি, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পথে বাংলা এখন নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। শিল্প, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্প আগামী দিনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, আমুল-এর এই ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের দুগ্ধ শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের “হোয়াইট রেভলিউশন”-এর ভিত্তি আরও মজবুত করবে।

![]()

More Stories
হরবোলা সুরের জাদুকর আর নেই, প্রয়াত পদ্মশ্রী মঙ্গলা কান্ত রায়
নবান্নে সেনসাস সম্মেলন: ১ আগস্ট থেকে জনগণনার সূচনা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
‘স্বচ্ছ’ অ্যাপের শুভ সূচনা, প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে উঠবে আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন বাংলা