সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠলেও, ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্রমশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পড়াশোনায় অমনোযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, অনলাইন গেমের নেশা, সাইবার বুলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি— এসব সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)।
১৫ জুলাই ২০২৬-এ জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্কুল চলাকালীন সময়ে, বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, পরীক্ষা, প্রার্থনা সভা বা অন্য কোনও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সঙ্গে আনা নিরুৎসাহিত করতে হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন দীর্ঘ দূরত্ব থেকে যাতায়াত বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে, প্রধান শিক্ষকের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে মোবাইল সঙ্গে রাখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ফোনটি অবশ্যই বন্ধ বা সাইলেন্ট মোডে রাখতে হবে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা করতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের প্রতিও আবেদন জানানো হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সন্তানদের স্কুলে মোবাইল ফোন না পাঠাতে। জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি স্কুল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও স্কুলগুলিকে নিয়মিত ডিজিটাল ওয়েল-বিয়িং, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা সংসদ।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
শিক্ষাবিদদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখার ফলে চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ, হতাশা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি পড়াশোনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মূল উদ্দেশ্য প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা নয়, বরং তার সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিদ্যালয় হলো শেখার জায়গা, তাই সেখানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষামহলের একাংশ।
শিক্ষা মহলের আশা, স্কুল, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে শিক্ষার পরিবেশ আরও সুস্থ, মনোযোগী ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।


![]()

More Stories
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি: দেশপ্রেম, সাহিত্য ও সুরের অমর স্রষ্টাকে স্মরণ
স্পঞ্জ আয়রন-সহ চার শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, উপকৃত হবেন প্রায় দেড় লক্ষ শ্রমিক
‘দ্য বং ভয়েস’-এর আত্মপ্রকাশ, তারকাখচিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত স্বানন্দ কিরকিরে