দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি: দেশপ্রেম, সাহিত্য ও সুরের অমর স্রষ্টাকে স্মরণ

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ বাংলা সাহিত্য ও সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, কবি, নাট্যকার, গীতিকার ও সুরকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর জন্মদিন। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্য, নাট্যচর্চা এবং দেশাত্মবোধক গানের জগতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান এবং দেশে ফিরে ব্রিটিশ সরকারের প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত থাকলেও তাঁর মন পড়ে ছিল সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং দেশপ্রেমের চর্চায়।

তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক গান আজও বাঙালির আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা”, “বঙ্গ আমার! জননী আমার!”, “যেদিন সুনীল জলধি হইতে”-র মতো গান আজও বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমান জনপ্রিয়।

শুধু গান নয়, ঐতিহাসিক নাটক রচনাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ‘মেবার পতন’, ‘শাহজাহান’, ‘চন্দ্রগুপ্ত’, ‘নূরজাহান’-সহ একাধিক নাটকে তিনি ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর নাটকে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ দেখা যায়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত গানগুলি আজ ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতির পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রগীতিও বাংলা সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারা হিসেবে সমাদৃত।

১৯১৩ সালের ১৭ মে তিনি পরলোকগমন করেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। জন্মদিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাহিত্যপ্রেমীরা তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আলোচনা সভা এবং দ্বিজেন্দ্রগীতি পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই মহান স্রষ্টার জন্মদিনে তাঁকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁর দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং সাংস্কৃতিক চেতনা আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Loading