আজ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবস: নবজাগরণের অগ্রদূতকে শ্রদ্ধার্ঘ্য

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আজ ১৩ শ্রাবণ, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, সমাজসংস্কারক, শিক্ষাবিদ ও মানবতাবাদী পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবস। ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই (১৩ শ্রাবণ, ১২৯৮ বঙ্গাব্দ) তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যু হলেও শিক্ষা, সমাজসংস্কার এবং মানবকল্যাণে তাঁর অবদান আজও বাঙালির চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। অদম্য অধ্যবসায় ও অসাধারণ মেধার জন্য সংস্কৃত কলেজ তাঁকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর তিনি বাংলা ভাষা, শিক্ষা এবং সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেন।

বাংলা গদ্যকে সহজ ও প্রাঞ্জল রূপ দেওয়ার পাশাপাশি শিশু শিক্ষার জন্য তিনি রচনা করেন ‘বর্ণপরিচয়’, যা আজও বাংলা ভাষা শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষার প্রসারে তিনি বহু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং নারীশিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সমাজসংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল বিধবা বিবাহ আন্দোলন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন কার্যকর হয়। একই সঙ্গে তিনি বহুবিবাহ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেন।

শুধু শিক্ষাবিদ বা সমাজসংস্কারক নন, বিদ্যাসাগর ছিলেন অসাধারণ মানবপ্রেমী। দরিদ্র, অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সর্বদা পরিচিত ছিলেন। তাঁর মানবিকতা ও উদারতার জন্য তিনি আজও ‘দয়ার সাগর’ নামে সমাদৃত।

আজকের দিনে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, স্মরণসভা, আলোচনা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহান মনীষীকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্ম আজও সমাজকে আলোকিত করে চলেছে।

আজকের এই তিরোধান দিবসে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর শিক্ষা, মানবতা, যুক্তিবাদ এবং সমাজসংস্কারের আদর্শকে ধারণ করার অঙ্গীকারই হতে পারে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য।

Loading