সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ‘সেঁজুতি’—নামটির অর্থই যেন আলো, দীপ্তি কিংবা আশার আলোকরেখা। আর সেই আলোর সঙ্গে রঙের মেলবন্ধন ঘটিয়েই নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন হুগলি জেলার গোঘাটের বদনগঞ্জের তরুণী সেঁজুতি। কোনও আর্ট কলেজে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ছবি আঁকা শেখার সুযোগ তাঁর হয়ে ওঠেনি। ছোটবেলায় পাড়ায় মাস্টারমশাইরা এসে ছবি আঁকা শেখাতেন। তাঁদের ছবি আঁকা দেখে দূর থেকে উঁকিঝুঁকি দিত ছোট্ট সেঁজুতি। মেয়ের সেই আগ্রহ নজরে পড়ে মা সুতপা কর্মকারের। এরপর তিনিই মেয়েকে ছবি আঁকার দিকে আরও উৎসাহিত করেন। ছোটবেলা থেকেই রং-তুলির প্রতি তৈরি হয় গভীর ভালোবাসা। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই ভালোবাসাকেও কখনও ছেড়ে দেননি সেঁজুতি। ইংরেজি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করলেও ছবি আঁকা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থেকেছে। আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকলেও থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর ছবি আঁকার প্রথম শিক্ষা গুরু সহদেব দুলুই। পরবর্তীতে ভৈরব বাগের সহচর্যেও ছবি আঁকার জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। ভারতীয় শিল্পরীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যম ও সংমিশ্রণে নিজের মতো করে ছবি তৈরি করেন সেঁজুতি। জলরং, অ্যাক্রিলিক-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিষয়কে নিজের ক্যানভাসে তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের জন্য আঁকা ছবিগুলি তাঁর মায়ের অত্যন্ত পছন্দের। বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন সেঁজুতি। পাশাপাশি নিজের আঁকা ছবির অর্ডারও পান। পুজো এবং বিভিন্ন বিশেষ উপলক্ষকে কেন্দ্র করেও বিশেষ ধরনের ছবি আঁকেন তিনি। শিল্পচর্চার পাশাপাশি বাগান করাও তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ। গাছপালা, রং-তুলি আর ক্যানভাস—এই তিনের মধ্যেই যেন খুঁজে পান নিজের আনন্দ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামাতে পারেনি; বরং নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের সান্নিধ্যকে পাথেয় করে ধীরে ধীরে ছবি আঁকার জগতে নিজের একটি পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করে চলেছেন বদনগঞ্জের সেঁজুতি। আর তাঁর এই পথচলা যেন প্রমাণ করে—শিল্পী হওয়ার জন্য শুধু প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পরিচয় নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, সাধনা আর রঙের প্রতি একনিষ্ঠ টান।

![]()

More Stories
দূষণের জেরে হুগলির দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ কারখানাকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা
নকুন্ডার মাটিতে স্বাধীনতার গোপন ঘাঁটি,সুধীরচন্দ্র ঘোষের অমর সংগ্রামের ইতিহাস
জন্মদিনে রক্তদান, মানবতার অনন্য নজির কার্তিক দত্তের