সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: শরতের আকাশে পুজোর গন্ধ। মহালয়ার আগেই আরামবাগের পুরাতন বাজারের আঢ্য পাড়ার নাগেদের বাড়িতে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। তবে এই বাড়ির পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অন্যরকম গল্প—মা দুর্গা এখানে আসেন ট্রেনে চেপে!
আর পাঁচটা পুজোর মতো গাড়িতে করে নয়, কোন্নগর থেকে ট্রেনে করেই আরামবাগে এসে পৌঁছেছে নাগ পরিবারের পারিবারিক দুর্গাপ্রতিমা। ট্রেন থেকে প্রতিমা নামানো হয়েছে এমন একটি জায়গায়, যেখানে লেখা রয়েছে—‘মহিলা কামরা’। আর সেই দৃশ্যই হয়ে উঠেছে এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
নাগ পরিবারের সদস্য অঙ্কুর নাগ জানান, এটি তাঁদের পারিবারিক দুর্গাপুজো। তাই প্রতিমার কাঠামোও সাড়ে তিন থেকে চার ফুটের মধ্যে বরাবর একই রাখা হয়। পুজোর ঐতিহ্য ও পারিবারিক পরম্পরাকে ধরে রেখেই প্রতিবছর একই কাঠামোয় তৈরি হয় দেবীর প্রতিমা।
এই পুজো এবার ষষ্ঠ বছরে পা দিয়েছে। প্রথম তিন বছর আরামবাগের শিল্পীদের দিয়েই প্রতিমা তৈরি করিয়েছিল নাগ পরিবার। তবে প্রতিমার আরও সুন্দর ফিনিশিং এবং নিখুঁত কারুকার্যের জন্য গত তিন বছর ধরে কোন্নগর থেকে প্রতিমা তৈরি করিয়ে আনা হচ্ছে। আর সেই প্রতিমাই আবার ট্রেনে চেপে পৌঁছে যাচ্ছে আরামবাগে।
পুজোর আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। মহালয়ার দিন কোন্নগর থেকে শিল্পী শুভজিৎ দাস এসে নাগবাড়ির প্রতিমার চক্ষুদান করবেন। পাশাপাশি নিজের হাতে দেবীকে সাজিয়ে তুলবেন তিনি। অর্থাৎ প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও দেবীর পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ পাবে মহালয়ার দিন শিল্পীর তুলির শেষ ছোঁয়ায়।
শুধু প্রতিমা বা সাজসজ্জাতেই নয়, নাগ পরিবারের পুজোয় রয়েছে ঘরোয়া ঐতিহ্যের ছোঁয়াও। দেবীর ভোগের মিষ্টি বাড়িতেই তৈরি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের হাতের তৈরি সেই মিষ্টি ও ভোগেই যেন মিশে থাকে কয়েক প্রজন্মের ভালোবাসা ও পুজোর আবেগ।
আধুনিকতার দৌড়ে যখন থিমের চাকচিক্য, বড় বাজেটের মণ্ডপ আর বাহারি আলোকসজ্জাই দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে, তখন আরামবাগের পুরাতন বাজারের আঢ্য পাড়ায় নাগ পরিবারের এই পুজো যেন অন্য এক গল্প বলে।
এখানে পুজোর জৌলুসের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে পরিবারের পরম্পরা, একই কাঠামোর প্রতিমা, বাড়ির তৈরি ভোগ আর ট্রেনে চেপে মায়ের আগমন।
কোন্নগর থেকে রেলপথ পেরিয়ে আরামবাগে এসে থামে প্রতিমা। তারপর পরিবারের মানুষজনের হাত ধরে পৌঁছয় নিজের ঘরে। যেন কয়েক স্টেশন পেরিয়ে শুধু একটি প্রতিমাই নয়—নাগ পরিবারের দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, আবেগ আর ভালোবাসাও ফিরে আসে ঘরের উঠোনে।
এই পুজোয় তাই মা দুর্গার আগমন শুধু দেবীর আগমন নয়, এ যেন এক পরিবারের পরম্পরার ঘরে ফেরার গল্প।

![]()

More Stories
নিজের আয়ের ৭৫ শতাংশ পথকুকুরদের জন্য, ছয় বছর ধরে নীরব লড়াই সুজাতা গাঙ্গুলীর
রেডিমেডের ভিড়ে ফিকে হচ্ছে দর্জির দোকানের আলো
তন্তুজের নামফলক আজও জ্বলজ্বল, শুধু বন্ধ দরজার ওপারে নেই সেই চেনা ভিড়