October 5, 2026

Oplus_16908288

সংঘর্ষ-সন্ত্রাসের সেই দিন থেকে আজকের সংগঠন, বিমান ঘোষকে ঘিরে দিলীপ ঘোষের স্মৃতিচারণায় উঠে এল আরামবাগের লড়াইয়ের গল্প

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আরামবাগের জুবলি পার্কের মাঠে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচনের মঞ্চ। সামনে দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। আর সেই মঞ্চ থেকেই যেন ফিরে গেলেন কয়েক বছর আগের আরামবাগে। নিজের রাজনৈতিক স্মৃতির পাতা উল্টে পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন দিলীপ ঘোষ।

তাঁর কথায়, ২০১৮ সালে তিনি যখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি, তখন আরামবাগে দলের সংগঠন গড়ে তোলা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাঁর দাবি, সিপিএমের সময় যেমন সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল, তেমনই তৃণমূলের সময়েও সেই পরিস্থিতির বদল হয়নি। আর সেই সময় আরামবাগে বিজেপির সংগঠনও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারেনি।

দিলীপ ঘোষের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে এক তরুণ বিমান ঘোষের কথা। তখন তিনি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক। দিলীপ ঘোষ তাঁকে একদিন প্রশ্ন করেছিলেন—জেলা সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারবেন? বিমান ঘোষ অল্প কথা বলতেন, উত্তরে বেশি কথা না বাড়িয়ে বিমান জানিয়েছিলেন, দায়িত্ব দিলে কাজ করবেন।

এরপর আসে সেই কঠিন সময়ের একাধিক স্মৃতি। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের কাছে বিজেপির একটি বৈঠক। আগে থেকেই সম্ভাব্য গোলমালের আশঙ্কা করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। বিমান ঘোষকে বলেছিলেন, প্রস্তুত থাকতে। তাঁর কথায়, বৈঠকের মধ্যে ২০-২৫টি বাইক এসে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে। কিছুক্ষণ পর তারা চলে যায়। আবার ফিরে এসে শুরু হয় স্লোগান, উত্তেজনা। সেই পরিস্থিতিতে মঞ্চ থেকেই ইশারায় কর্মীদের সংগঠিত করেছিলেন বিমান ঘোষ।

দিলীপ ঘোষের বর্ণনায়, সেই ঘটনাগুলির মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে আরামবাগে বিজেপির সংগঠন শক্ত হতে শুরু করেছিল। এরপর আসে আরও বড় পরীক্ষা—বৃষ্টির মধ্যে দুই হাজার কর্মী নিয়ে মিছিল। দিলীপ ঘোষ শর্ত দিয়েছিলেন, কর্মীসংখ্যা দুই হাজারের কম হলে তিনি আসবেন না। বিমান ঘোষ সেই দায়িত্বও নিয়েছিলেন।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সেদিন আরামবাগের পথে নেমেছিল বিজেপির মিছিল। তখন সভা-মিছিলের জন্য জায়গা পাওয়া কঠিন ছিল, অনুমতির সমস্যাও ছিল। যে জায়গায় আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি দাঁড়িয়ে, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল সেই মিছিল। পৌঁছেছিল এসডিও অফিস পর্যন্ত। আর সেই দিনেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রবীণ নেতা বিশ্বনাথ কারক।

দিলীপ ঘোষের কথায়, যে যুবকদের হাত ধরে একসময় আরামবাগে সংগঠনের ভিত তৈরি হয়েছিল, তাঁদেরই অনেকে আজ জনপ্রতিনিধি। সেই স্মৃতির আবেগেই তিনি বিমান ঘোষের পুরনো দিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষে দিলীপ ঘোষের এই প্রশংসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিমান ঘোষও ফিরে যান সেই পুরনো দিনে। তাঁর কথায়, তখন সংগঠন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং কষ্টের। কিন্তু সময় বদলেছে। সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বে আসার পর অনেক সময় পুরনো দিনের সেই লড়াইয়ের কথা ভুলে যাওয়া হয়। তবে সেই দিনের আবেগ, সেই সংগ্রামের স্মৃতি এখনও তাঁদের মনে রয়েছে।

আরামবাগের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেই সময়টা ছিল উত্তাল। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে।  জুবলি পার্কের মঞ্চে তাই শুধু একজন নেতার প্রশংসা শোনা গেল না—উঠে এল এক সময়ের ভয়, প্রতিকূলতা, সংগঠন গড়ার লড়াই এবং সেই লড়াই থেকে উঠে আসা এক প্রজন্মের রাজনৈতিক স্মৃতি।

Oplus_16908288

Loading