সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: আউসগ্রামের বিখ্যাত সুন্দরী জঙ্গলমহল। ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলে গেছে রাস্তা- কোথাও ঢালাই রাস্তা কোথাও বা লাল মোড়াম। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি গাছ। গাছে নানা রকম পাখির কিচিরমিচির শব্দ। শুনলেই মন ভরে যায়। মাঝে মাঝে নাকি ময়ূরেরও দেখা মেলে। সব মিলিয়ে অরণ্যের নীরব পরিবেশে এক অপার আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য নিয়ে অবস্থান করছে এই এলাকা। এর কোনো শেষ নাই। সৌন্দর্যের টানে শুধু জঙ্গল প্রেমীরা নয় সাধারণ মানুষও ছুটে আসে। শীতের সময় তো তাদের আগমন বেড়ে যায়- কেউ আসে পিকনিক করতে, কেউবা সৌন্দর্যের টানে। মুহূর্তের মধ্যে ক্যমেরাবন্দী করে ফেলে সৌন্দর্যকে।
জঙ্গলের মাঝে মাঝে গড়ে উঠেছে আদিবাসী অধ্যুষিত জনবসতি। সেখানেও বিরাজ করে আর এক ভিন্ন স্বাদের সৌন্দর্য। এরকমই এক জনবসতি হলো দেবশালা অঞ্চলের ‘বড়ডোবা’ মৌজার লবনধার গ্রাম। এটি গড়ে ওঠার পেছনে লুকিয়ে আছে চমকপ্রদ কাহিনী।কমপক্ষে তিনশ বছর আগের ঘটনা। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের ঘন জঙ্গলের গা ছম ছম করা পরিবেশে দেবশালা অঞ্চলের বিখ্যাত ‘বড়ডোবা’-র তীরে ছিল এক বিশাল বটগাছ। শোনা যায় কোনো একসময় একটি পায়রা অথবা চিল সেই গাছের উপর এসে বসে। তখন ঐ ডোবাকেই কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এক আদিবাসী পাড়া। তবে শুধু আদিবাসী নয় জেনারেল কাস্টের মানুষও আছে অনেক। অন্যদিকে আছে আর এক কাহিনী। এই রাজ্যের সবচেয়ে কলঙ্কময় ইতিহাস লুকিয়ে আছে ১৯৭২ সাল জুড়ে। সরকার বনাম নকশালদের সংঘর্ষ ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তরঞ্জিত হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। শোনা যায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ঘন জঙ্গলে আশ্রয় নিত নকশালরা। নকশাল দমনে তৎপর রাজ্য পুলিশের হাত থেকে রেহাই পায়নি আউসগ্রামের বেনাচাপড়া। সেখানেও রক্ত ঝড়তে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে এলাকার বাসিন্দারা চলে আসে বড়ডোবায়। গড়ে তোলে এক ‘নতুনগ্রাম’। কিন্তু নতুনগ্রাম হিসাবে সেভাবে পরিচিতি পায়নি। উচ্চারণের ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণেই হোক নাম পরিবর্তিত হয়ে উঠেছে লবনধার। সেই নাম আজও চলে আসছে। ‘নামে কি এসে যায়’ নামের পরিবর্তন হলেও সৌন্দর্যের কোনো পরিবর্তন নাই। ইতিহাস সাক্ষী আছে – সৌন্দর্যের প্রতি যুগ যুগ ধরে আদিবাসী রমণীদের একটা আলাদা প্রীতি আছে। শত দুঃখ-কষ্ট বা অভাবের মধ্যেও কোনোদিনও সেটা তারা ভোলেনি। ব্যক্তিগত ভাবে তারা যেমন সাজতে ভালবাসে তেমনি গৃহস্থালির মধ্যেও সেই সৌন্দর্য ধরা পড়ে। চর্যাপদের যুগ থেকে শুরু করে এই আধুনিক যুগেও তারা সেই ধারা বজায় রেখেছে। লবনধার গ্রামের প্রায় প্রতিটি আদিবাসী বাড়িতে তার অর্থবহ চিহ্ন পাওয়া যায়। মনসা মন্দিরে যেমন আছে সাপের চিত্র, তেমনি কোথাও আছে রাধাকৃষ্ণের মূর্তি। পশুপাখি, মাছ ইত্যাদি তো আছেই।
![]()

More Stories
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা
লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে SIR সংক্রান্ত দাবিপত্র বিজেপি বিধায়কদের