মানুষের মত মানুষ হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে: শুভাপ্রসন্ন

সোমালিয়া সংবাদ, খানাকুল: মানুষের মত মানুষ হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে। আর সেই স্বপ্নকে হাতিয়ার করেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরামর্শ দিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। রবিবার তিনি খানাকুলের ঘোষপুর ইউনিয়ন নেতাজি বিদ্যাপীঠের ৭৫ বছর পূর্তি  অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্কুল শিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার, বিশিষ্ট গবেষক দেবাশিস শেঠ, হুগলি জেলা সভাধিপতি মেহেবুব রহমান, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শেখ হায়দার আলি প্রমূখ। এখানে  মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শুভাপ্রসন্ন বলেন, স্বপ্ন দেখবে সবাই। যে স্বপ্ন দেখে না, সে বড় হতে পারে না। স্বপ্ন দেখবে ছোট নয়, বড় স্বপ্ন দেখবে। যখনই তুমি বড় স্বপ্ন দেখবে, দেখবে সেখানে এগিয়ে যেতে পারবে। স্বপ্নই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তিনি নিজের পরিবেশ, স্কুল, এমনকি নিজের জীবনকে ভালবাসার পরামর্শ দেন ছাত্র-ছাত্রীদের।  বাবা-মা এবং গুরুজনদের শ্রদ্ধা করার কথা বলেন। এদিন তিনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে জাপানি সংস্কৃতির উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, জাপানে সমস্ত ছেলেমেয়েরা যারা একেবারে প্রথমে স্কুলে ঢোকে সেখান থেকে শুরু করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। প্রথমেই তারা স্কুলে বা কলেজে ঢুকে তাদের স্কুল এবং কলেজকে পরিষ্কার করে। তোমরাও মনে করবে এটা তোমাদের মন্দির।  তোমাদের জীবনকে আলোকিত করার জন্য সেই মন্দিরে তোমাদের শিক্ষকরা রয়েছেন। তাঁরা পড়াশোনার জন্য সবসময় সতর্ক থাকেন। আর তোমরাও এই মন্দিরকে পরিষ্কার রাখার জন্য স্কুলে এসে কোন একটা সময় বের করে সবসময় নিজের ক্লাসরুমকে পরিষ্কার রাখবে। অন্যদিকে অধ্যাপক  মজুমদার বলেন, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বর্তমানে শিক্ষার প্রসার দেখা যাচ্ছে। সকলে মিলে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের সংকল্প, আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের প্রধান কাজ ছাত্র-ছাত্রীদের মনকে গড়ে তোলা, তাদেরকে সমাজের কাজে এগিয়ে দেওয়া। তাদেরকে শেখানো এই দেশ ও এই দেশের মানুষের জন্যই আমাদের বেঁচে থাকা। এই দেশকে যেন আমরা না ভুলি। দেশের প্রতি আমাদের আবেগ যেন জাগরুক থাকে। পরে  সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভীকবাবু বলেন, সারা ভারতবর্ষের নিরিখে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে, আর অষ্টম শ্রেণীর পর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। তাই চারদিকে যে বলা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা গেল গেল, তথ্য কিন্তু তা বলছে না। আর ওই পরীক্ষাটা কিন্তু রাজ্য সরকার নেয় না, কেন্দ্র সরকার নেয়। তবে যদি সিলেবাসের পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় তার জন্য কমিটি রয়েছে। তাঁরা নিশ্চয়ই যথাসময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আর কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যদি আমাদেরকে আরও কিছু অর্থ বরাদ্দ করা হয় তাহলে আমরা আরও ভালো ফল করব।

Loading