শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বন্ধে সচেতনতার বার্তা নিয়ে পায়ে হেঁটে দিল্লি যাত্রা খানাকুলের শিক্ষকের

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: দেশ থেকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বন্ধ করতে খানাকুল থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করলেন খানাকুলের মাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মুখার্জি। যিনি এলাকার মানুষের কাছে ‘বহুরূপী গোলাপসুন্দরী’ প্রধান শিক্ষক নামে পরিচিত। কারণ গোলাপসুন্দরী নাম নিয়ে বহুরূপী সেজে গালে-কপালে রং, হাতে বালা, পায়ে নূপুর পরে, থালা বাজিয়ে নেচে নেচে ছড়া কেটে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। কখনও করোনা মহামারীর কখনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাটে ঘুরে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন। একই বার্তা নিয়ে কিছুদিন আগে তিনি পায়ে হেঁটে দিল্লি গিয়েছিলেন। এবার তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা জুড়ে সচেতনতা প্রচারে নেমে পড়লেন। বৃহস্পতিবার রাজা রামমোহন রায়ের জন্মস্থান রাধানগর থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেন। যাত্রা শুরু মুহূর্তে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রামমোহন গবেষক দেবাশিস শেঠ ও এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট  মানুষজন। যাত্রা শুরুর আগে তারা সকলে দেবাশিসবাবুকে সম্বর্ধনা জানান। স্কুলে গরমের ছুটিকে কাজে লাগিয়েই তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সচেতনতা প্রচার করতে করতে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাবেন দার্জিলিংয়ে। দেবাশিসবাবু বলেন, আগের থেকে বাল্যবিবাহ এখন অনেকটা কমে গেলেও গ্রামেগঞ্জে এখনও ১৮ বছরের কম বয়সের মেয়েদের বিয়ে দেওয়া চলছে। পাশাপাশি শিশুশ্রম দ্রুত বন্ধ হোক এটাও চাই। তাই এ ব্যাপারে সকলের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতেই আমার এই উদ্যোগ। পাশাপাশি সারা দেশ জুড়ে এক সবুজ সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে গাছ লাগানো এবং দুর্ঘটনা কমাতে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ নিয়েও সচেতন করছি। অন্যদিকে বিশিষ্ট গবেষক দেবাশিস শেঠ বলেন, একসময় কুসংস্কার দূর করার জন্য রাজা রামমোহন রায় পায়ে হেঁটে তিব্বত গিয়েছিলেন। দেশ থেকে সামাজিক ব্যাধি দূর করার জন্য দেবাশিসবাবুও পায়ে হেঁটে দার্জিলিং যাচ্ছেন। আমরা সকলেই তাঁর পাশে আছি।

Loading