সোমালিয়া সংবাদ: খানাকুল: বিজেপি কর্মীর পরিচয় দিয়ে এক তৃণমূল নেতাকে মোবাইল ফোনে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতা বৃহস্পতিবার খানাকুল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত আটটা নাগাদ। ওই সময় ফোনটি আসে খানাকুলের তৃণমূল নেতা মুন্সি নজিবুল করিমের কাছে। বর্তমানে তিনি হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য। এছাড়াও তিনি তৃণমূলের হুগলি জেলা সম্পাদক পদে রয়েছেন। মুন্সি নজিবুল করিম জানান, হঠাৎই ৯৩১৩৩৮১১৫৯ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের উল্টোদিক থেকে তাঁকে নানারকম ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে মেরে ফেলা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁকে মায়ের কোল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কেটে কুঁচি কুঁচি করে কিমা করে খাবে। কেউ বাঁচাতে পারবে না। যদিও ওই ব্যক্তি নিজের কোন পরিচয় দিতে রাজি হয়নি। নিজেকে সে গুজরাটের আহমেদাবাদের বাসিন্দা বলে দাবি করে। পাশাপাশি বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির অন্ধভক্ত বলে নিজেকে দাবি করে। সে আরও হুমকি দেয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে সামনাসামনি যেদিন দেখা হবে সেদিন শেষ করে দেওয়া হবে। যদিও বারবার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি নজিবুল করিমকে নিজের নাম ঠিকানা বলতে রাজি হয়নি। নজিবুল করিম ওই ব্যক্তিকে বলেন, তার যদি এতই সাহস তাহলে কোথায় যেতে হবে সে বলুক। এখনই নজিবুল করিম সেখানে যাবেন। তখন ওই ব্যক্তি নজিবুলকে খানাকুলের বন্দরে যেতে বলে। যদিও সে জানায়, সে এখন সেখানে নেই, গুজরাটে আছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সে দেখে নেবে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার নজিবুল করিম খানাকুল থানায় ওই ফোন নম্বর দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নজিবুল করিম বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং যুবনেতা অভিষেক ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সৈনিক। রাজনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে বিজেপি নোংরা রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে। ওরা খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে। আমরা এই ধরনের রাজনীতির তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তৃণমূলের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের পর খানাকুলের বেশকিছু তৃণমূল নেতা-কর্মী দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ফলে খানাকুল এলাকায় বিজেপির বেশ কিছুটা শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই মুন্সি নজিবুল করিমের নেতৃত্বে একের পর এক কর্মসূচি তৃণমূলকে আবার শক্তিশালী ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর তাতেই বিজেপির পক্ষে খানাকুল এলাকায় সংগঠন বিস্তার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা এভাবে খুনের হুমকি দিয়ে নজিবুল করিমকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিমান ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি কখনও এ ধরনের নোংরা রাজনীতি করে না। তৃণমূলে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই ওদের নেতাকর্মীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোন সম্পর্ক নেই।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত