February 4, 2026

নন্দীগ্রাম নিয়ে জোটের অদ্ভুত আচরণ, তৃণমূলের সঙ্গে জোটের আঁতাতের অভিযোগ বিজেপির

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: ব্যাটেলফিল্ড নন্দীগ্রাম। প্রায় ১৪ বছর পর আবার সংবাদ শিরোনামে নন্দীগ্রাম। শুধু এ রাজ্যেই নয়, সারাদেশের  মানুষেরই চোখ এখন নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ আসন হল নন্দীগ্রাম।  ভিভিআইপি প্রার্থীদের লড়াই। প্রচারেও দেখা যাবে দেশের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীদের। কারণ এখানে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্বয়ং। আর তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হলেন একদা তাঁরই ক্যাবিনেটের দ্বিতীয় ব্যক্তি, বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই আসনে বাম-কংগ্রেস-আব্বাস সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল এই আসন থেকে দাঁড়াবেন আব্বাস সিদ্দিকীর দলের এক জনপ্রিয় মুখ। তিনি সম্ভবত আব্বাস সিদ্দিকীর পরিবারেরই কেউ একজন হতে পারেন। কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর সেই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এই আসনে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে জোটের নীরবতায় অনেকেই বিস্মিত। তবে সূত্রের খবর, এই আসনে নাকি প্রার্থী দিতে চলেছে সিপিএম, আব্বাস সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নয়। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত বদল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, এখানে একটা বড় অংশের মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আর এই সংখ্যালঘু ভোটের বেশিরভাগটাই এতদিন পেয়ে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। এবারেও সেই ভোট মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঝুলিতে যাওয়ারই বেশি চান্স। তাই আব্বাস সিদ্দিকীর দল প্রার্থী দিলে কিছু মুসলিম ভোট তাঁদের দলের প্রার্থী পাবেন কোন সন্দেহ ছিল না। এখন সিপিএম যদি প্রার্থী দেয় তাহলে মুসলিম ভোটের বেশিরভাগটাই চলে যাবে তৃণমূলে। উল্টে সিপিএম তার নিজের ভোট কিছুটা ফিরে পেতে পারে। তাহলে লাভ তৃণমূলেরই, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জয় একেবারে নিশ্চিত হয়ে যাবে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তৃণমূলকে সুবিধা করে দিতেই বাম-কংগ্রেস জোট এখানে আব্বাস সিদ্দিকীর দলের বদলে সিপিএম থেকে প্রার্থী দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিল? উল্লেখ্য, এই আসনটি দীর্ঘদিন সিপিআইয়ের দখলে ছিল। তারা ১৯৬৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটানা জিতে এসেছে। মাঝে ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস একবার এই আসনটি দখল করেছিল। তারপর ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জিতে এই আসনটি তৃণমূলের দখলে চলে যায়। তারপর থেকে তৃণমূল প্রার্থীরা এখানে জয়লাভ করেছেন। তাই প্রশ্ন উঠতে পারে, বামেরাও যদি এই আসনে প্রার্থী দেয় তাহলে সিপিআই কেন দিল না? তার জায়গায় সিপিএম কেন? এখানেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সিপিআই প্রার্থী দিলে বিজেপির ভোট তাদের পক্ষে বেশি কাটা সম্ভব হতো না। তার থেকে অনেকটাই বেশি ভোট সিপিএম কাটতে পারবে।  সিপিএম তাদের নিজেদের ভোট ব্যাংকের কিছুটা অন্তত ফিরে পাবে। ইতিমধ্যেই  বাম-কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকী জোটের সঙ্গে তৃণমূলের তলায় তলায় আঁতাত আছে বলেও বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আর আব্বাস সিদ্দিকীর দলের বদলে সত্যিই যদি সিপিএম নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেয় তাহলে হয়তো ওই আঁতাত নিয়ে  প্রচারে আরও বেশি জোর দেবে বিজেপি। এখন দেখার সিপিএম সত্যিই নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেয়, নাকি আব্বাস সিদ্দিকীর দল  ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট থেকেই কেউ দাঁড়ান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে জোটের প্রার্থীর ওপরে অনেকটাই জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।

Loading