সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে পড়া এক বিজেপি কর্মীর চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন গোঘাটের বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার। তাঁর চিকিৎসা যাতে ভালভাবে হতে পারে সেজন্য ব্যাঙ্গালোরে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট পর্যন্ত কেটে হাতে তুলে দিলেন। জানা গেছে, ওই বিজেপি কর্মীর নাম কানাই সাঁতরা। বাড়ি গোঘাটের কাঁটালি গ্রামে। আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পাশাপাশি তিনি বিজেপি দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন। কিন্তু বছরখানেক আগে তিনি বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। আরামবাগ, বর্ধমান ও কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। বাঁ পা ও শিরদাঁড়ায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরজন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়। ফলে জমি জায়গা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। তাকে শয্যাশায়ী হয়েই থাকতে হয়। তাই এখনও চিকিৎসার প্রয়োজন। আর তার জন্য আবার অস্ত্রোপচার করতে হবে। যার খরচ প্রায় পাঁচ লক্ষের বেশি টাকা। কিন্তু অত টাকা খরচ করা সম্ভব ছিল না। তাই বাড়ি ফিরে চলে এসেছিলেন। এরপর এ বছর জানুয়ারি মাসে কানাইয়ের বাবা অজিত সাঁতরা গোঘাট-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন পালের সঙ্গে দেখা করেন। মনোরঞ্জনবাবু বিষয়টি বিধায়ক মানস মজুমদারকে জানান। সঙ্গে সঙ্গে তখনই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি আধিকারিকরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়ে দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোই ভাল। কিন্তু ট্রেনের রিজার্ভেশন পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পারেন মানসবাবু। তিনি দ্রুত ওই অসুস্থ বিজেপি কর্মীর চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালোরের টিকিটের ব্যবস্থা করেন। বুধবার দুপুরে কানাইয়ের বাড়িতে গিয়ে মানসবাবু ওই টিকিট তাঁদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি কিছু আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন গোঘাট-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন পাল, গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি নারায়ন পাঁজাসহ তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কানাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কানাই বলেন, বিধায়ক মানস মজুমদার থেকে শুরু করে এলাকার তৃণমূল নেতারা বারেবারেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওনার এই অবদান কোনদিন ভুলতে পারব না। আমরা চাই মানসবাবুর মত মানুষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিধায়ক হোন। অন্যদিকে বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কখনও রাজনীতি করিনা। কে কোন দল জানতে চাই না। ওনারা সমস্যায় পড়েছিলেন। আমরা আমাদের ক্ষমতা মত যতদূর পারি সাহায্য করছি। আগামী দিনেও ওনাদের পাশে থাকব। এটাই আমাদের দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জির নীতি ও আদর্শ। আমরা সেই আদর্শ মেনেই কাজ করে থাকি।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত