August 12, 2026

গাড়ি সাজিয়ে শাঁখ বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে বাদ্যযন্ত্র সহকারে বাড়িতে নিয়ে গেলেন সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে

সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: বর্তমানে সমাজে বেশিরভাগ বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্যরা সবসময় পুত্র সন্তান লাভের আশা করেন। এমনকি ঠাকুর-দেবতা ও ঈশ্বরের কাছে মানতও করেন। উল্টোদিকে কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে মাকে অনেক লাঞ্ছনার শিকার পর্যন্ত হতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন গোঘাটের গোলপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ দে ও তাঁর পরিবার। কন্যা সন্তান হওয়ার পরেও গাড়ি সাজিয়ে বাদ্যযন্ত্র সহকারে ধুমধামের সঙ্গে সেই সন্তান সহ স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। বুঝিয়ে দিলেন কন্যাসন্তান ফেলনার জিনিস নয়, বরং অতি মূল্যবান ধন। জানা গেছে, সৌরভবাবু আরামবাগের একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। চার বছর আগে গোঘাটের কানপুর গ্রামের বাসিন্দা লিপিকা পালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সোমবার রাতে লিপিকাদেবী আরামবাগের একটি নার্সিংহোমে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শুক্রবার চিকিৎসক লিপিকাদেবীকে নার্সিংহোম থেকে ছুটি দেন। তারপরই সৌরভবাবু গাড়ি সাজিয়ে তাঁর স্ত্রী ও সদ্যোজাত কন্যাকে গোলপুর গ্রামের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। ফুল, বেলুন এবং রঙিন কাগজ দিয়ে গাড়িটি সাজানো হয়েছিল। ওই গাড়িতে চড়ে সদ্যোজাতকে নিয়ে মা-বাবা বাড়িতে পৌঁছতেই খুশিতে মেতে ওঠেন সৌরভ বাবুর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় মানুষজন। চলে বাদ্যযন্ত্রসহকারে নাচ। শাঁখ বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে ধুমধামের সঙ্গে নতুন অতিথিকে পরিবারের লোকজন বরণ করে বাড়িতে তোলেন। মা লক্ষ্মীর আগমন হিসাবে সারা বাড়িতে সুন্দরভাবে মা লক্ষ্মীর পদচিহ্নসহ আলপনা দেওয়া হয়। ফুলমালা দিয়ে বাড়িটিকেও সাজানো হয়। এ প্রসঙ্গে সৌরভবাবু বলেন, আমার কন্যা সন্তান হওয়ায় আমি ভীষণই খুশি। বাবা-মা সহ বাড়ির সকলেও খুশি। মালক্ষ্মী হিসেবে বরণ করেই তাকে বাড়িতে তুলেছি। কন্যা সন্তানকে অনেকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু তাকে ভালোভাবে শিক্ষিত করতে পারলে সে দুটি পরিবারকে সুখ শান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে। সৌরভবাবুর স্ত্রী লিপিকা দে বলেন, অনেকে কন্যা সন্তানকে তুচ্ছ মনে করে, অবহেলা করে। তাদের সেই মনোভাব এবার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। শুধু আমি নয় আমাদের পরিবারের সবাই কন্যা সন্তান হওয়ায় মন থেকে খুশি। এটা আমারও খুব ভাল লাগছে সৌরভবাবুর মা রীনা দে বলেন, নাতনি হওয়ায় আমাদের বাড়িতে এখন উৎসব চলছে। আমরা ভীষণই আনন্দিত।

Loading