February 4, 2026

বাড়িতে ভোটদান গ্রহণে অনিয়ম, প্রিসাইডিং অফিসারকে ঘিরে তৃণমূলের বিক্ষোভ

সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: বয়স্কদের জন্য বাড়িতে ভোটদানের সময় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং অফিসার ও সরকারি কর্মীদের ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার নিজেও। ঘটনাটি ঘটেছে গোঘাটের কর্ণপুরে।  উল্লেখ্য, এবছর কোভিড পরিস্থিতির জন্য ৮০ বছরের বেশি বয়স্কদের বাড়িতেই ভোটদানের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই উপলক্ষে স্থানীয় বিএলও-রা তথ্য সংগ্রহ করে ভোটদানের ব্যবস্থা করেন।  গোঘাটে শনিবার ছিল বয়স্কদের জন্য ভোটদানের দিন। সেই অনুযায়ী এদিন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মীরা কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে কর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিত পালের বাড়িতে যান। কারণ সঞ্জিতবাবু আগেই তাঁর মা বৃদ্ধা লীলা পালের জন্য  বাড়িতে ভোটদানের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সঞ্জিতবাবুর অভিযোগ, তাঁর মা মানসিকভাবে সুস্থ নন।  কোথায় কিভাবে ভোট দিতে হয় তিনি জানেন না। সেজন্য তিনি সরকারি আধিকারিকদের জানান মায়ের হয়ে তিনি ভোট দেবেন। কিন্তু প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মীরা তাতে আপত্তি জানান। এমনকি সঞ্জিতবাবুকে বাড়ির বাইরে বের করে দেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সঞ্জিতবাবু এলাকায়  তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, তাই হয়তো প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্যান্য কর্মীরা তাঁর মায়ের ভোট হয়তো বিজেপিকে দিয়েছেন নয়তো নষ্ট করে দিয়েছেন। কারণ আমরা ভোট দিলে তৃণমূলে ভোট যাবে। তাই আমাদেরকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সেখানে ছুটে যান গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার ও দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তাঁরা ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা দাবি তোলেন, নতুন করে ভোট করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী মানস মজুমদার বলেন, প্রশিক্ষণের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যদি কোন বয়স্ক ব্যক্তি ভোট দিতে না পারেন তাহলে  তাঁর রক্তের সম্পর্ক থাকা নিকট সম্পর্কের কেউ তাঁর হয়ে ভোট দেবেন। এছাড়াও প্রার্থীর হয়ে এজেন্টও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এদিন প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী কর্মীরা ভোটদানের সময় উপস্থিত থাকলেও ওই বৃদ্ধার পরিবারের কাউকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তৃণমূলের এজেন্টকেও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাই আমরা এরমধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। অবিলম্বে আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে হস্তক্ষেপ করার দাবি জানাচ্ছি এবং ওই বৃদ্ধার হয়ে যাতে তাঁর পরিবারের লোক সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন তারও ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি।

Loading