সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; লালমাটির বাঁকুড়া ১৮৮১ সালে আজকের দিনে (মতান্তরে ১৬ ই মার্চ) বাঁকুড়া পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসবে স্বীকৃতি পায়। বাঁকুড়া জেলা গঠনের সূচনা হয়েছিল ১৮৩৪ সালে। ওই সময়ে বাঁকুড়ায় দু’টি মহকুমা ছিল বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর। মোট গ্রামের সংখ্যা ছিল ৩,৯৮৭টি। আর এলাকা ছিল ১,৩৪৬ বর্গমাইল। ১৮৭২ সালের হিসেবে লোকসংখ্যা ছিল ৫,২৬,৭৭২। থানা ছিল পাঁচটি। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে রঘুনাথ মল্ল মল্ল রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকে বাঁকুড়া জেলা “মল্লভূম” নামে পরিচিত হয়। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর বিষ্ণুপুর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। পরে মরাঠা আক্রমণ ও ১৭৭০ সালের মন্বন্তরে এই অঞ্চলের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিষ্ণুপুর এলাকা, যা বর্তমানে বাঁকুড়ার এক-তৃতীয়াংশ, মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ছিল। আবার, ১৭৮৭ সালে তা চিহ্নিত হয় বর্ধমানের অংশ হিসেবে। ১৮০৫ সালে ২৩ টি পরগণা নিয়ে তৈরি হয় জঙ্গলমহল জেলার। তখনই বাঁকুড়ার ছাতনা, সিমলাপাল, ভালাইডিহা, সুপুর প্রভৃতি অঞ্চলগুলি জঙ্গলমহলের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮০৫ থেকে ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাঁকুড়া ছিল জঙ্গলমহলের সদর দফতর। ১৮৩৩ সালে জঙ্গলমহল ভেঙে মানভূম জেলার তৈরীর পরে, ১৮৩৪ সালে বাঁকুড়া জেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে ১৮৮১ সালের ১৪ মার্চ (মতান্তরে ১৬ ই মার্চ) আইনানুগ ভাবে স্বতন্ত্র বাঁকুড়া জেলা গঠিত হয়। বাঁকুড়া মানে প্রাচীন শিল্প আর বিখ্যাত মানুষদের জন্মস্থান। পাঁচমুড়া থেকে শুরু করে বিষ্ণুপুর, সোনামূখী, জয়পুর, শুশুনিয়া যেখানেই যাবেন প্রাচীন শিল্পের নিদর্শন খুজেঁপাবেন। সারদাদেবী, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, রামকিঙ্কর বেইজ, যামিনী রায়, যদুভট্ট, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুমিত্রা দেবীর মতো কত শিল্পী, সাহিত্যিকের জন্ম এই বাঁকুড়ায়। দীর্ঘ যাত্রাপথে বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই জেলা। এক দিকে, যেমন গঙ্গানারায়ণের বিদ্রোহ, চুয়াড় বিদ্রোহের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে বাঁকুড়া, তেমনই ছিল শিক্ষাশ্রম, ছেন্দাপাথরে ক্ষুদিরামের গুপ্ত ঘাঁটি, সিক্রেট সোসাইটি, রামদাসের আখড়া, সংগঠনী সমিতি, অভয়াশ্রম, অনুশীলন সমিতি’র মতো বিপ্লবীদের ঘাঁটি। আবার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী, সুভাষচন্দ্র বসু, সরোজিনী নাইডুর মতো অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তির আগমনে, স্মরণে-বরণে ধন্য এই বাঁকুড়া। এই বাঁকুড়াতেই রয়েছে শুশুনিয়া পাহাড়, কোড়ো পাহাড়, বাসিন্দা পাহাড়, গাংদুয়া ড্যাম, মুকুটমনিপুর, বড়দি পাহাড়, সবুজ দ্বীপের মতো জনপ্রিয় ভ্রমন ক্ষেত্র। বিকনার ডোকরা শিল্প, বিষ্ণুপুরের তাস, লন্ঠন শিল্প, পাঁচমুড়ার টেরাকোটা শিল্প বাঁকুড়াকে রাজ্য তথা দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক বিশেষ নাম হিসেবে তুলে ধরেছে; একথা বলাই যায়।
![]()

More Stories
কয়লা পাচার কাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গে ইডির তল্লাশি অভিযান, দুর্গাপুর ও বুদবুদে হানা
দিল্লিতে রাজ্য পুলিশের বাড়তি টিম, ২২ জনের দল রাতের বিমানে রওনা
লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে SIR সংক্রান্ত দাবিপত্র বিজেপি বিধায়কদের