February 4, 2026

ত্রিশঙ্কু হলে বিজেপির সমর্থনে তৃণমূলের সরকার?‌

অপা: ২০২১ সালে বাংলার ভোটের যে গতিপ্রকৃতি তাতে অনেকের সন্দেহ এবার ত্রিশঙ্কু সরকার গঠন হচ্ছে। অর্থাৎ কোন দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে বিজেপি তৃণমূল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বি। সংযুক্ত মোর্চা নামে আরও একটি জোট হয়েছে। তারা কিন্তু অতটা প্রভাব ফেলতে পারবে না ২০২১ বাংলার নির্বাচনে। তবে তারা যে কটি সিট পাবে তার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিশঙ্কু সরকার গঠনের সম্ভাবনা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এমনটাই এখন বিভিন্ন চায়ের দোকানে বা অন্যান্য আড্ডাখানায় শোনা যাচ্ছে।তাঁদের মতে, সঠিকভাবে যদি পর্যালোচনা করা হয় দেখা যাবে তৃণমূল, বিজেপি এবং জোটের যে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে কোন দলই কিন্তু প্রার্থী নিয়ে সব জায়গায় সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ ভাবে বিজেপি যেভাবে তৃণমূল থেকে আগতদের টিকিট দিয়েছে তাদের জেতা অনেকটাই অনিশ্চিত। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টা ঠিক গিয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য বোঝাপড়ায়। ঠিক যেভাবে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারকে তুষ্ট করে বাংলায় বামফ্রন্ট দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছে। এটা হচ্ছে ভোটের রাজনীতি বা বলা যায় ভোটে জেতার রাজনীতি। তাঁদের কথায়,  সিপিএম বা বামফ্রন্ট  বরাবরই ঐতিহাসিক ভুল করে। এদের চরমতম ঐতিহাসিক ভুল ছিল কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়া। যার ফলে ২০১১ সালে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এ রাজ্যে কড়াভাবে ভোট পরিচালনা করেছিল। চায়ের দোকানের আড্ডা দেওয়া মানুষের দাবি, এখন পর্যন্ত ২০২১ সালে যে ভোট হচ্ছে কোনমতেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় না। এটা তখনই হয় যখন কেন্দ্র-রাজ্য সুসম্পর্ক থাকে। যেটা অনেকেই মনে করছেন দিদি ও মোদির সুন্দর বোঝাপড়া আছে বলেই এইভাবে ভোট করানো সম্ভব হচ্ছে। যেটা বলা হচ্ছে দিদি এবং মোদি বোঝাপড়া অর্থাৎ কেন্দ্র-রাজ্য বোঝাপড়া। তাঁদের দাবি,  যদি ত্রিশঙ্কু ফলাফল হয়, তাহলে বাংলায় বিজেপির সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হবেন তৃতীয়বারের জন্য। অনেকেই বলবেন, এটা একেবারেই অবাস্তব। তাংধের মতে, যদি সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা হয় দেখা যাবে, যখন কেন্দ্রের মোদি সরকার রাজ্যসভায় সমর্থনের অভাবে বিল পাস করতে পারছিল না তখন তৃণমূল গোপনে সমর্থন দিয়েছে। তার প্রতিদান স্বরূপ বিজেপির সমর্থনে মমতা তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন।এছাড়াও আরও একটি বড় কারণ আছে। যা বিজেপির মাথাব্যথার বড় কারণ। সেটি হল, জাতীয় দল কংগ্রেসের অবস্থা আঞ্চলিক দলের থেকেও খারাপ। এই অবস্থায় ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ। এমতাবস্থায় যদি কংগ্রেস সহ বিজেপি বিরোধী দলগুলি মমতাকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, আগামী দিনে বিজেপিকে সরিয়ে মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।মূলতঃ সেই রাস্তা বন্ধ করতেই বিজেপি সমর্থন দিয়ে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী করবে। তখন আবার প্রমাণিত হবে রাজনীতির অভিধানে অসম্ভব বলে কোনও শব্দ নাই।

Loading