February 4, 2026

সহজ পাঠের সাদাকালো ছবিতে রঙিন হয়ে উঠেছে সঞ্জয় মল্লিকের বাড়ি

সোমালিয়া সংবাদ আরামবাগ: নামিদামি কোম্পানির রং দিয়ে অনেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলেন। কিন্তু আনিজের বাড়িকে কে না ভালোবাসে? আর তাই সকলেই সেই প্রিয় বাড়িটিকে সব সময় সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। নামিদামি কোম্পানির রং থেকে শুরু করে সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্রে সাজিয়ে তোলা হয়।  কিন্তু আরামবাগের মানিকপাটের বাসিন্দা সঞ্জয় মল্লিকের ভাবনাটা অন্যরকম। পেশায় চিত্রশিল্পী সঞ্জয় তাঁর বাড়িটিকে সাজিয়ে তুলেছেন সহজ পাঠের ছবিতে। রামবাগ সালেপুর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানিকপাট গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় মল্লিকের ভাবনাটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। তিনি তাঁর বাড়িটিকে সাজিয়ে তুলেছেন ‘সহজ পাঠ’-এর বিখ্যাত সব ছবিতে। ‘ছোট খোকা বলে অ আ/ শেখেনি সে কথা কওয়া’ থেকে শুরু করে মোট ১৯টি ছবিকে তিনি তাঁর বাড়ির দেওয়ালে স্থান দিয়েছেন।   কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ’-এ ছোট ছোট ছড়া ও বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা সাদা-কালো ছবিগুলিকেই  যেন তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমে জীবন্ত করে তুলেছেন। আর তাই তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই সব ছবি দেখে এলাকার মানুষ থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিরে যাচ্ছেন শৈশবে। কারণ এখন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দাপটে বর্তমান প্রজন্মের জীবন থেকে অনেকটাই  দূরে চলে গেছে এই ‘সহজ পাঠ’। তাই অক্ষর পরিচয়ের ফেলে আসা দিনগুলি আবার চোখের সামনে দেখতে পেয়ে গ্রামের মানুষ অভিভূত। দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে মানিকপাট গ্রামের এই বাড়িটি তাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঞ্জয় পেশায় চিত্রশিল্পী। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী ও এক ছেলে রয়েছে। সঞ্জয় জানালেন, ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলার অফ ফাইন আর্টসে গ্রাজুয়েশন করেছেন। এরপর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অফ ফাইন আর্টস করেছেন। কলকাতা শহরে প্রায় ২৫টি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। আরামবাগের বড়ডোঙ্গলে নিজের  ছবি আঁকার স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের শেখান। সঞ্জয় বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কথা ও চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর এই ভুবন বিখ্যাত ছবিগুলো সাদা কালো হলেও মানুষের মনে রঙিন হয়ে আছে। আমার মনে হয়েছে সহজপাঠ মানুষের মন থেকে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি ভাবলাম সবাই তো বাড়ির সামনের দিকে সুন্দর সুন্দর রং করে। আমি যদি সেখানে সহজ পাঠের ছবিগুলি আঁকি সেগুলিও তো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারে, পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। এখন বুঝতে পারছি আমার ভাবনা ভুল ছিল না। কারণ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ এখন এই ছবিগুলি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন। ছবিগুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের হয়তো শৈশবের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সহজপাঠ যাতে একেবারে হারিয়ে না যায়, আবার যাতে সহজপাঠ স্বমহিমায় বিস্তার করে এটাই আমি চাই। তাই আমি নিজের বাড়ির দেওয়ালে এই ছবিগুলিকে তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে শিক্ষক রাজকুমার রায় বলেন, অক্ষর পরিচয়ের জন্য এখন বিভিন্ন ধরনের অনেক নতুন নতুন বই বের হয়েছে। কিন্তু সহজ পাঠের বিকল্প আজও তৈরি হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলা বর্ণমালার প্রাথমিক ধারণা, তাদের কাঠামো, উচ্চারণ রীতি শিক্ষার জন্য এর থেকে ভাল বই আর কিছু হতে পারে না।  ছোট ছোট ঘটনা ও গ্রাফিক্স চিত্র দিয়ে অক্ষরগুলিকে শিশুমনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। সেই বিষয়কেই নিজের বাড়ির দেওয়ালে তুলে ধরে অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সঞ্জয়বাবু এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Loading