প্রাচীন মিশরের মমি তৈরির রহস্য উন্মোচন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ মমি—শব্দটি উচ্চারণ করলেই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে পিরামিডের অন্ধকার ঘরে রাখা রহস্যময় কাঠের বাক্স, আর তার ভেতর ব্যান্ডেজে মোড়া হাজার বছরের পুরনো দেহ। মমি মানেই রহস্য, ভয়, বিস্ময়—যা যুগ যুগ ধরে মানুষের কল্পনা ও কৌতূহলকে উসকে দিয়েছে। অগণিত গল্প, উপন্যাস, সিনেমার অনুপ্রেরণা হয়েছে এই মমি।

কিন্তু প্রশ্ন জাগে—কার মৃতদেহ সংরক্ষণ করত মিশরীয়রা? আর কীভাবেই বা সম্ভব হলো কয়েক হাজার বছর পরেও সেই দেহ থেকে বিজ্ঞানীরা ডিএনএ সংগ্রহ করতে?

আসলে, মমিফিকেশন ছিল প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এক বিশেষ প্রথা। তাদের বিশ্বাস ছিল, মৃত্যুর পরও আত্মা অমর। তাই দেহকে অক্ষত রাখার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল মৃত্যুর পরের জীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি। মূলত রাজা, ফেরাউন, অভিজাত ও ধনী শ্রেণির মানুষের দেহকেই মমি করা হতো।

মমি তৈরির ধাপগুলো

গবেষণায় জানা যায়, নিখুঁত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণ করত—

১. মস্তিষ্ক অপসারণ : নাক দিয়ে একটি লম্বা হুক ঢুকিয়ে মস্তিষ্ক বের করে নেওয়া হতো।
২. অভ্যন্তরীণ অঙ্গ অপসারণ : শরীরের বাম পাশে ছেদ করে ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত ও অন্ত্র বের করা হতো। সাধারণত হৃদপিণ্ড রেখে দেওয়া হতো।
৩. শোধন ও শুকানো : দেহগহ্বর পাম ওয়াইন ও মশলা দিয়ে পরিষ্কার করা হতো।
৪. অঙ্গ সংরক্ষণ : অঙ্গগুলো ন্যাট্রন লবণ দিয়ে শুকিয়ে বিশেষ ক্যানোপিক জার-এ রাখা হতো।
৫. শরীর ভরাট করা : দেহ শুকিয়ে গেলে লিনেন বা বালুর গুঁড়ো দিয়ে ভরাট করা হতো, যাতে আকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
৬. মোড়ানো : এরপর দেহকে লিনেন ব্যান্ডেজ দিয়ে স্তরে স্তরে মোড়ানো হতো। ব্যান্ডেজের ফাঁকে রাখা হতো তাবিজ ও রত্ন।
৭. অন্তিম সৎকার : সবশেষে মমিটিকে কাঠের কফিন বা পাথরের সারকোফ্যাগাসে রেখে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হতো।

আজও বিস্ময়ের উৎস

এই নিখুঁত প্রক্রিয়ার কারণেই আজও হাজার বছরের পুরনো মমি প্রায় অক্ষত অবস্থায় গবেষকদের হাতে আসে। প্রাচীন মিশরের সভ্যতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিকিৎসা জ্ঞানের নিদর্শন হিসেবে মমি আজও বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়।

Loading