সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মেরুদণ্ড বলা হয় নিচু স্তরের জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু বাস্তবের চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন—একদিকে সাংসদ-বিধায়কদের বিপুল সম্মানিক ও সুযোগ-সুবিধা, অন্যদিকে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তার অভাব। এই বৈষম্য ঘিরেই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে অসন্তোষ, উঠছে প্রশ্ন—এটাই কি প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি?
বর্তমানে সাংসদ ও বিধায়করা দায়িত্বে থাকাকালীন মোটা অঙ্কের বেতন-ভাতা, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, ট্রেন ও বিমান যাত্রায় ছাড়, মোবাইল-ইন্টারনেট সুবিধা থেকে শুরু করে সরকারি আবাসনের সুযোগ ভোগ করেন। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা পেনশনের আওতায় থাকেন। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদের সদস্যদের প্রাপ্ত সম্মানিক এতটাই কম এবং অনিয়মিত যে তা দিয়ে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
নিচু স্তরের জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, “আমরাই সবথেকে বেশি মানুষের পাশে থাকি—দিনরাত ২৪ ঘণ্টা। মানুষের সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদে ছুটে যাই। অথচ আমাদের প্রাপ্য সম্মানিকটুকুও সময়মতো পাই না, যা পাই তাও প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই আর্থিক বৈষম্য শুধু অন্যায়ই নয়, বরং গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। তাঁদের মতে, “সম্মানিকের অঙ্ক কিছুটা কমবেশি হতেই পারে, কিন্তু একটি সময়োপযোগী ও সুষম কাঠামো থাকা জরুরি। সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের জন্য ভাতা ও পেনশনের ন্যূনতম নিশ্চয়তা থাকা উচিত।”
বিশেষজ্ঞদের আরও মত, শুধুমাত্র সংসদ বা বিধানসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন—এই ধারণা গণতান্ত্রিক সমতার পরিপন্থী। নিচু স্তরের প্রতিনিধিরাও একইভাবে জনসেবায় নিয়োজিত, তাই তাঁদেরও আর্থিক সুরক্ষা পাওয়া উচিত।
এদিকে, অনেকের মতে এই কম সম্মানিকই দুর্নীতির এক নীরব প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক জনপ্রতিনিধি অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনৈতিক পথে পা বাড়াতে বাধ্য হন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্বচ্ছ প্রশাসন ও জনবিশ্বাস।
অনেকে নিচু স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সংগঠিত আন্দোলনেরও পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, “নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার না হলে এই বৈষম্য দূর হবে না।”
গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি যে মানুষের মধ্যে, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সেই মানুষের প্রতিনিধিরাই যদি বঞ্চনার শিকার হন, তবে প্রশ্ন উঠবেই—এই ব্যবস্থায় কাদের জন্য ন্যায়, আর কাদের জন্য শুধুই প্রতিশ্রুতি? বঞ্চনার শিকলে বাঁধা গণতন্ত্রের প্রকৃত কর্মীরা।

![]()

More Stories
বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অগ্রদূত মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজ প্রয়াণ দিবস
‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়: শিক্ষা, আত্মমর্যাদা ও জাতীয় চেতনার এক অবিস্মরণীয় পুরুষ
ডিজিটাল পরিষেবায় নতুন উদ্যোগ, বনগাঁর বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার ওয়েবসাইট চালু