November 30, 2025

দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কঠোর অবস্থান: ‘অপরাধীদের রেহাই নেই’ — হুঁশিয়ারি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর এই নৃশংস ঘটনার পর সারা দেশজুড়ে যখন আতঙ্ক ও নিন্দার ঝড় উঠেছে, তখন অসমের মুখ্যমন্ত্রীও কঠোর ভাষায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন,

“যারা এই বিস্ফোরণের প্রশংসা করছে বা সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট দিচ্ছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

দিল্লির জনবহুল এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। বিস্ফোরণের পরই দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত নাশকতা, এবং এর সঙ্গে দেশবিরোধী সংগঠনের যোগ থাকতে পারে।

ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে, বিশেষ করে রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে। এই প্রেক্ষাপটেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন।

গতকাল গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. শর্মা বলেন,

“দিল্লিতে যা ঘটেছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যারা এই ঘটনাকে সমর্থন করছে বা উল্টোভাবে ‘বীরত্ব’ হিসেবে দেখাতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামাজিক মাধ্যমে যারা এই বিস্ফোরণকে প্রশংসা করছে, তাদের ট্র্যাক করা হচ্ছে। কাউকে ছাড়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, অসম পুলিশ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেলকে সক্রিয় করেছে, যাতে রাজ্যের ভেতর থেকে কেউ এই ঘটনার প্রশংসা বা উস্কানিমূলক মন্তব্য না করতে পারে।

 “অভিব্যক্তির স্বাধীনতার নামে কেউ সন্ত্রাসকে উৎসাহ দিতে পারে না। যে কেউ যদি তা করে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে,” — দৃঢ় কণ্ঠে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণ তদন্তের দায়ভার এনআইএ (NIA)-র হাতে দিতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধরা পড়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকটি অত্যাধুনিক এবং সীমান্ত পারের সংযোগ অস্বীকার করা যাচ্ছে না।

অসম, যেটি বহুদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নাশকতার সম্ভাব্য রুট হিসেবে নজরে রয়েছে, সেখানে এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যের নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,

 “আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অসম শান্তিপ্রিয় রাজ্য, কেউ যদি জাতি বা ধর্মের নামে সমাজে বিভেদ ছড়াতে চায়, তাকে রেহাই দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যে কোনও উস্কানিমূলক পোস্ট বা ভিডিওর বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম শাখাকে ব্যবহার করা হয়।

অসমে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলেছেন,

“ঘটনা নিন্দনীয়, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মত প্রকাশের নামে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত নয়।”

অন্যদিকে শাসকদল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে।

সামাজিক সংগঠন ও নাগরিক মহলের মতে, এমন অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

দিল্লির বোমা বিস্ফোরণ কেবল রাজধানী নয়, গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই বক্তব্যে স্পষ্ট

দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ ও তার সমর্থকদের প্রতি কোনওরকম সহানুভূতি বা নরম মনোভাবের জায়গা নেই।

এখন নজর সবার, দিল্লির তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

Loading