সোমালিয়া ওয়েব নিউজ; আজ ১ ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস। সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং আক্রান্তদের মানবিক ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়। সারা দেশজুড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চলছে সচেতনতা শিবির, বিনামূল্যে পরীক্ষা, পরামর্শ ও রোগ প্রতিরোধমূলক প্রচার কর্মসূচি। তেমনই এক উদ্যোগের সাক্ষী রইল বাহাদুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র—যেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মহিলা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট শুক্লা কুন্ডু, যিনি এই সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। রোগ কী ও কীভাবে ছড়ায়?এইডস (*Acquired Immune Deficiency Syndrome*) হল HIV সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর স্তর। এই ভাইরাস দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।
মূলত ৪টি উপায়ে এই রোগ ছড়ায় বলে জানাচ্ছে WHO— অসুরক্ষিত শারীরিক সম্পর্ক সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ দূষিত ও জীবাণুযুক্ত সিরিঞ্জ বা ব্লেডের ব্যবহার। মা থেকে সন্তানের শরীরে (গর্ভাবস্থা, প্রসব বা স্তন্যদানের মাধ্যমে) WHOতবে স্পর্শ, একই থালায় খাবার, আলিঙ্গন, হাত মেলানো, পোশাক ভাগাভাগি বা মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায় না—এমন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।
প্রতিরোধ কীভাবে সম্ভব? এই রোগের টিকা এখনো সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত না হলেও, প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর বেশকিছু ব্যবস্থা রয়েছে, যা শিবিরগুলিতে জোর দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। জাতীয় স্তরে NACO প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতি পরিচালনা করে। শিবিরে কর্মীরা যেসব বিষয় প্রধানত তুলে ধরছেন—1. অসুরক্ষিত সম্পর্ক এড়িয়ে চলা ও প্রয়োজনে কন্ডোম ব্যবহার, 2. রক্ত নেওয়ার আগে যথাযথ পরীক্ষা নিশ্চিত করা, 3.সিরিঞ্জ, ব্লেড, শেভিং শেভার ব্যক্তিগত রাখা, 4.ট্যাটু, আকুপাংচার, দাঁতের চিকিৎসায় জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা, 5.মায়ের সংক্রমণ থাকলে সন্তান প্রসবের আগে মেডিকেল পরামর্শ ও ART চিকিৎসা গ্রহণART (*Antiretroviral therapy*) নিয়মিত নিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থেকে আক্রান্ত মানুষও দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন—এ তথ্য বারবার তুলে ধরছে আরেকটি জাতীয় উদ্যোগ NACO
ভাদুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শিবির: ভাদুর গ্রাম সংলগ্ন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল একদিনের সচেতনতা শিবির। সেখানে গিয়ে কথা বলি মহিলা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট শুক্লা কুন্ডু–এর সঙ্গে।তিনি বলেন,“এইডস ঠেকানো সম্ভব, ভয় নয়—জরুরি সচেতনতা, মানবিক আচরণ আর নিয়ম মেনে চলা। অনেকেই এখনও মনে করেন, আক্রান্ত মানুষকে ছোঁয়া যাবে না, এক ঘরে থাকা যাবে না—এ সবই ভুল। আমাদের প্রথম কাজ এই ধারণা ভাঙা। এরপর আমরা রোগ ছড়ানোর আসল উপায় ও প্রতিরোধের সহজ নিয়মগুলো শেখাই। বিনামূল্যে HIV পরীক্ষা ও ART চিকিৎসা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই পাওয়া যায়, আমরা মানুষকে সেই ঠিকানাও পৌঁছে দিই।”
শিবিরে উপস্থিত নার্স, আশা ও ANM কর্মীরা বাড়ি-বাড়ি প্রচারপত্র বিতরণ করেন এবং যুবক-যুবতীদের সচেতন করতে আলাদা সেশন নেন। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জন্য ছিল বিশেষ পরামর্শ, যাতে মা থেকে শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধে আগাম চিকিৎসা শুরু করা যায়। শুক্লা কুন্ডু আরও জানান, যারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন, যারা সিরিঞ্জ ব্যবহৃত মাদক নেন এবং যাদের রক্তঘটিত চিকিৎসা বেশি চালাতে হয়—তাদের নিয়মিত পরীক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যুব সমাজকে সচেতন করতে স্কুল, কলেজের সহযোগিতায় ক্যাম্প পরিচালনা করাও এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর লক্ষ্য।
মোট কথা, প্রতিরোধেই মুক্তি এইডস মানে শেষ নয়—চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রিত ও সম্মানজনক জীবন সম্ভব। কিন্তু রোগের শ্রেষ্ঠ ও সহজতম প্রতিষেধক হল সতর্কতা, নিরাপদ আচরণ ও নিয়মিত পরীক্ষা—যা আজকের শিবির থেকে উঠে আসা মূল বার্তা—সমাজের সবাই যদি এগিয়ে আসি, ভয় কাটাই, ভুল ধারণা ভাঙি এবং প্রতিরোধের নিয়মগুলো মেনে চলি—তবেই সুস্থ, সুরক্ষিত ও মানবিক ভারত গড়ার স্বপ্ন সফল হবে আজকের বিশ্ব এইডস দিবসের অঙ্গীকার।




![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত