সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তন ছাত্র রাকেশ আজ এই অঞ্চলের এক পরিচিত প্রতিবাদী মুখ। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রাকেশ জীবনের কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবই ছিল তাঁর চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য। সমাজের বঞ্চনা, অনিয়ম ও প্রশাসনিক নৈরাজ্য তাঁকে বরাবরই ভাবিয়েছে এবং সেই ভাবনা থেকেই তিনি ক্রমশ যুক্ত হয়েছেন সামাজিক আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ে।
রাকেশ কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। আইনের পাঠ তাঁকে শুধু একটি পেশাই দেয়নি, দিয়েছে যুক্তিবোধ, বিচারবুদ্ধি ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত। সরকারি চাকরির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা কখনওই হারাননি তিনি।
কামারপুকুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রেল যোগাযোগের উন্নতি। কিন্তু রেল প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সেই সময় রাকেশ সামনের সারির সদস্য হিসেবে যোগ দেন ‘কামারপুকুরে রেল চাই’ আন্দোলনের মঞ্চে। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনকে সংগঠিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
আইনের ছাত্র হওয়ায় রাকেশ আন্দোলনকে কেবল আবেগের স্তরে আটকে রাখেননি। তিনি বুঝেছিলেন, প্রশাসনিক স্তরে চাপ তৈরি করতে হলে আইনি পথই সবচেয়ে কার্যকর। সেই ভাবনা থেকেই জনস্বার্থে পিটিশনার হিসেবে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার—দু’পক্ষকেই মামলার প্রতিপক্ষ করা হয় জনস্বার্থে।
হাইকোর্টে মামলার মাধ্যমে রেল প্রকল্পের বিষয়ে প্রশাসনের গাফিলতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরেন রাকেশ। মামলায় জয় লাভ হলেও দীর্ঘ সময় কাজ শুরু না হওয়ায় তিনি আবারও প্রশাসনের বিরুদ্ধে কন্টেম্পট অব কোর্ট মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। একাধিকবার বৈঠক, আলোচনা ও আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে কাজ শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে থাকে।
রাকেশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী মার্চ মাস নাগাদ বিষ্ণুপুর থেকে তারকেশ্বর রেল চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশাবাদী তিনি। এই রেল যোগাযোগ চালু হলে কামারপুকুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা
রাকেশের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর বিচারবুদ্ধি, সাহসিকতা ও নির্ভীক মনোভাব তাঁকে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছে। তিনি নিজেও মনে করেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনও জনস্বার্থের আন্দোলন সফল হতে পারে না।
বর্তমান যুব সমাজের উদ্দেশে রাকেশের স্পষ্ট বার্তা—ভবিষ্যতে যে কোনও সামাজিক সমস্যা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সঠিক পথে প্রতিবাদ করতে হবে এবং ভয় না পেয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি আইনজীবীদের প্রতিও তাঁর আহ্বান, সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে এনে আরও বেশি করে জনস্বার্থে মামলা করা উচিত। তাঁর মতে, আইনের সঠিক প্রয়োগই পারে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে।
একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান থেকে সমাজের স্বার্থে নিরলস লড়াই করা রাকেশ আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর পথচলা প্রমাণ করে, দৃঢ় মনোবল, আইনি জ্ঞান ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা থাকলে সাধারণ মানুষও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।


![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত