বাংলার ‘চাণক্য’ প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় আর নেই: বিতর্ক, কৌশল আর রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান। বাংলার ‘চাণক্য’ নামে পরিচিত প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি, রবিবার রাতে কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংগঠন গড়ে তোলা, কৌশল নির্ধারণ এবং দলীয় সমীকরণ মেলাতে তাঁর দক্ষতা তাঁকে এই উপাধি এনে দিয়েছিল।নদিয়ার কাঁচরাপাড়ার রাজনৈতিক মাটি থেকে উঠে আসা মুকুল রায় প্রথমে ছাত্র ও যুব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পান এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রেলমন্ত্রকের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সংগঠন পরিচালনায় তাঁর কৌশলী ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়।তবে রাজনৈতিক জীবনে ছিল উত্থান-পতনের পালাবদল। দলীয় মতভেদ ও বিতর্কের জেরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৭ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অঙ্ক কষার ক্ষমতাই তাঁকে বাংলার ‘চাণক্য’ উপাধি দেয়। পরে আবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়।সহকর্মীরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষা এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। বিরোধীরাও স্বীকার করেন, কৌশলী পদক্ষেপ ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। যদিও জীবনের শেষ পর্বে শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তাঁকে অনেকটাই আড়ালে সরিয়ে দেয়।রাজনৈতিক মহল তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দল ও মতের নেতারা সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একদিকে যেমন ছিল বিতর্ক, অন্যদিকে তেমনই ছিল সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে মুকুল রায়ের জীবন বাংলার রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন এক কৌশলী সংগঠক, যাঁর পদচিহ্নে চিহ্নিত একাধিক পালাবদলের অধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটলেও স্মৃতিতে রয়ে যাবে বাংলার ‘চাণক্য’-র রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।

Loading