প্রবাদপ্রতিম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মণি ছেত্রীর প্রয়াণ, চিকিৎসা জগতে শোকের ছায়া

১০৬ বছর বয়সে প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপ্ত চিকিৎসক, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় দীর্ঘ অবদান

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মণি ছেত্রীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চিকিৎসা মহল। ১০৬ বছর বয়সে গতকাল কলকাতার বালিগঞ্জে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই বিশিষ্ট চিকিৎসক। তাঁর মৃত্যুতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক যুগের অবসান ঘটল বলে মত চিকিৎসক মহলের। ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ ছেত্রী। অল্প বয়স থেকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাঁর। ১৯৪৪ সালে ডাক্তারিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৪৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে লন্ডন থেকে এমআরসিপি (MRCP) ডিগ্রি লাভ করেন এবং আমেরিকার কলেজ অফ কার্ডিওলজি থেকে ফেলোশিপ অর্জন করেন, যা তাঁর চিকিৎসা জীবনে বিশেষ স্বীকৃতি এনে দেয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং এসএসকেএম হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি IPGMER-এর অধিকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব সামলান তিনি। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য অধিকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসা পরিষেবায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৪ সালে তিনি Padma Shri সম্মানে ভূষিত হন। রোগীদের প্রতি তাঁর মানবিক ব্যবহার, নিখুঁত চিকিৎসা দক্ষতা এবং প্রশাসনিক নেতৃত্ব তাঁকে চিকিৎসক মহলে এক বিশেষ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ডাঃ ছেত্রীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে West Bengal Doctors Forum-সহ বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। তাঁদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আগামী দিনে বিশেষভাবে অনুপস্থিত থাকবে।চিকিৎসা জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রাক্তন সহকর্মী ও ছাত্ররা তাঁর স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই ছিলেন না, ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক ও মানবিক মানুষ। ডাঃ মণি ছেত্রীর প্রয়াণে রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবায় যে শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়—এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Loading