অক্ষয় তৃতীয়া: চিরস্থায়ী শুভফল, দান ও নতুন সূচনার পবিত্র দিন

সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ অক্ষয় তৃতীয়া হিন্দু ধর্মের অন্যতম শুভ ও পবিত্র দিন, যা বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয়। “অক্ষয়” শব্দের অর্থ—যা কখনও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না বা চিরস্থায়ী। এই বিশ্বাস থেকেই মনে করা হয়, এই দিনে করা সৎ কাজ, পূজা, দান বা নতুন সূচনা চিরকাল অক্ষয় থাকে এবং তার ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

অক্ষয় তৃতীয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব বহু প্রাচীন পুরাণ ও কাহিনির সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত মতে, এই দিনেই ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল। একইসঙ্গে এই দিনটি ভগবান বিষ্ণু-র ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম-এর জন্মতিথি হিসেবেও পালিত হয়। আবার অনেকের বিশ্বাস, এই দিনেই মা লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়, তাই ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির কামনায় লক্ষ্মী-নারায়ণ পূজার বিশেষ আয়োজন করা হয়।

মহাভারতের কাহিনিতেও এই দিনের উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়, এই দিনেই পাণ্ডবরা অক্ষয় পাত্র লাভ করেছিলেন, যার মাধ্যমে অসীম পরিমাণ খাদ্য পাওয়া যেত এবং যা কখনও ফুরিয়ে যেত না। এছাড়াও অনেকে মনে করেন, এই দিনেই গঙ্গা দেবীর অবতরণ ঘটেছিল পৃথিবীতে, যা এই দিনের পবিত্রতাকে আরও বৃদ্ধি করে।

অক্ষয় তৃতীয়ায় দান-পুণ্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শাস্ত্র মতে, এই দিনে খাদ্য, জল, বস্ত্র, ফল বা অর্থ দান করলে তা বহু গুণে বৃদ্ধি পায় এবং জীবনে শুভ ফল বয়ে আনে। বিশেষ করে গরমকালে দরিদ্রদের জল ও অন্ন দানকে অত্যন্ত পুণ্যময় কাজ হিসেবে দেখা হয়।

সমাজে এই দিনটি শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। তাই অনেকেই এই দিনে নতুন ব্যবসা শুরু করেন, জমি বা বাড়ি কেনেন, বা সোনা-রূপা কেনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির আশা করেন। বিয়ের মতো মঙ্গল কাজও এই দিনে শুভ বলে ধরা হয়, কারণ এই দিনে আলাদা করে শুভ মুহূর্ত দেখার প্রয়োজন হয় না।

জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনেই প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ দীর্ঘ উপবাস ভঙ্গ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই জৈন সমাজেও এই দিনটি পবিত্র হিসেবে পালিত হয়।

সব মিলিয়ে, অক্ষয় তৃতীয়া কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শুভ শক্তি, সমৃদ্ধি, দানশীলতা এবং নতুন সূচনার এক প্রতীকী দিন—যেখানে বিশ্বাস করা হয়, সৎ কাজের ফল কখনও নষ্ট হয় না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পায়।

Loading