জলা জমিতে চাষে ভরসা নেই, মাছ চাষেই সম্ভাবনা—গোঘাটে নির্বাচনী ইস্যুতে তীব্র চর্চা

সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: হুগলির গোঘাট এক নম্বর ব্লকের শাওড়া ও নকুণ্ডা অঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার একর জলা জমি এবার নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা কবলিত এই এলাকায় বছরে মাত্র একবার চাষ হলেও তাতে পর্যাপ্ত ফলন হয় না। ফলে চাষের উপর নির্ভর করে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের কাছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শাওড়া থেকে ঘাটাল পর্যন্ত ব্রিটিশ আমলের একটি রাস্তার সরকারি রেকর্ড থাকলেও আজও সেই রাস্তায় উন্নয়নের কাজ শুরু হয়নি। আশ্চর্যের বিষয়, রাস্তা না থাকলেও সেখানে একটি প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, একশ দিনের কাজের বিভিন্ন প্রকল্প বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে মাছ চাষের প্রস্তাব। আমডোবা গ্রামের বাসিন্দা ডেভিড চৌধুরি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “এই বিশাল জলাবদ্ধ এলাকায় সরকার উদ্যোগ নিলে মাছ চাষের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বাড়বে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।” তিনি রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় সরকারের যৌথ উদ্যোগের দাবি জানান। মুক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা তরুণ কুমার দে সমস্যার মূল কারণ হিসেবে আমোদর নদীর বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীটির সংস্কার না হওয়ায় বর্ষার জল বের হতে পারছে না। বিশেষ করে সুলতানপুরের হুড়হুড়ে ঘাট সংলগ্ন প্রায় ১২-১৩ কিলোমিটার অংশে নদী প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এই অংশ সংস্কার করা গেলে জল নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং বিস্তীর্ণ জমি বাঁচানো যাবে। স্থানীয় কৃষকরাও মাছ চাষের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নিচু জমিতে মাছ চাষ হলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে পর্যাপ্ত আয়ের অভাবে এলাকার বহু মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে পাড়ি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে গোঘাট এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিজয় রায় এবং সেচ ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষা মানসী ও রিনা দেবী জানান, সমস্যা সমাধানে প্রশাসন সচেষ্ট। তাঁদের মতে, পূর্ববর্তী সময়ে জমি পাট্টা দেওয়ার কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা সমাধান করেই উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজিও বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার জানান, কেন্দ্রীয় সরকার মাছ চাষে জোর দিচ্ছে এবং ক্ষমতায় এলে তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন। প্রয়োজনে কেন্দ্রের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী মুক্তারাম বাবুর বক্তব্য, প্রথমে নদী-নালা, খাল-বিল সংস্কার করা জরুরি। তারপরে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ শুরু করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সব মিলিয়ে, শাওড়া-নকুণ্ডার জলাবদ্ধ জমি, আমোদর নদীর সংস্কার এবং মাছ চাষের সম্ভাবনাই এখন গোঘাটের নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

Loading