সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: বর্ষায় ভরা নদী, আর সেই নদীর বুক চিরে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ভিড়ে ঠাসা যাত্রী নিয়ে চলছে পারাপার। ফলে যেকোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ঘটনাটি গোঘাটের বালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোঘাট ও আরামবাগের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে দ্বারকেশ্বর নদ। গোঘাটের বালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামগুলি থেকে দ্রুত আরামবাগের বড়ডোঙ্গল, সালেপুর ইত্যাদি এলাকায় যাওয়ার জন্য সব সময় নদী পার হতে হয়। এর জন্য বালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট পাঁচটি নদীঘাট রয়েছে। তার মধ্যে চারটি ঘাট দিয়ে আরামবাগের বিভিন্ন এলাকা ও একটি ঘাট দিয়ে ঘাটালে যাওয়া যায়। ওই এলাকার মানুষ মূলত কৃষিজীবী। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় হাট বসে। সেই হাটে জিনিসপত্র কেনাবেচার জন্য নিয়মিত ক্রেতা-বিক্রেতাদের নদী পারাপার করতে হয়। এছাড়াও স্কুল-টিউশন থেকে শুরু করে ডাক্তারখানা, আত্মীয় বাড়ি সমস্ত কিছুতেই নদী পেরিয়ে যাতায়াত। বছরের অন্যান্য সময় অস্থায়ী বাঁশ ও কাঠের ব্রিজ থাকে। তার ওপর দিয়ে সাইকেল-বাইক সমস্ত কিছুই চলে। কিন্তু বর্ষায় জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অস্থায়ী ব্রিজ খুলে ফেলা হয়। তার বদলে যাতায়াত করতে হয় নৌকার মাধ্যমে। গোঘাটের স্যাকরার ঘাটের মাঝি উত্তম মালিক বলেন, নৌকায় কুড়ি পঁচিশ জন পর্যন্ত যাত্রী ওঠে। এছাড়াও সাইকেল-বাইক ও অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। তবে খুব বেশি জল বাড়লে ভয় লাগে। তখন নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিই। জগতপুর গ্রামের বাসন্তী মন্ডল বলেন, নাতনি নৌকায় করে নদী পার হয়ে টিউশন পড়তে যায়। যতক্ষণ না বাড়ি ফিরে আসে ততক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকি। অন্যান্য জায়গায় কংক্রিটের ব্রিজ হয়ে গেছে। তাই এখানেও যদি একটি ব্রিজ করে দেওয়া হয় তাহলে খুব ভাল হয়। খানাকুলের মহিষগোট গ্রামের বাসিন্দা আশিস খেটো বলেন, তিনি একটি এগ্রিকালচার কোম্পানিতে কাজ করেন। সেই সূত্রে এই নদী পার হয়ে সপ্তাহে দু-তিনদিন যাতায়াত করতে হয়। ভরা নদীতে যাতায়াত করতে সবসময় ভয় লাগে। ব্রিজ হলে তখন আর ভয় থাকবে না। একই কথা জানালেন বালি গ্রামের গৃহবধূ পূর্ণিমা মূলা। তিনি বাচ্চাকে নিয়ে আত্মীয় বাড়ি যাচ্ছিলেন। বললেন, যতক্ষণ না ওপারে পৌঁছোচ্ছি ততক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকব। বছরের অন্যান্য সময় তবু অস্থায়ী ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত চলে। কিন্তু বর্ষা এলেই সকলকে ভয়ে ভয়ে পার হতে হয়। আর এই ভয়কে সঙ্গে নিয়েই এইসব গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়মিত যাতায়াত। তাই তাঁদের দাবি, প্রশাসন যদি এখানে একটি স্থায়ী সেতুর ব্যবস্থা করে তাহলে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত