সোমালিয়া ওয়েব নিউজঃ গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, মানবিকতা, আত্মসম্মান ও আন্তরিক স্নেহেরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও তাঁর প্রিয় শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ-এর জীবনের একটি বহুল প্রচলিত কাহিনি আজও ভক্তমহলে গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
তখন নরেন্দ্রনাথ কঠিন আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তাঁর মা ভুবনেশ্বরী দেবী একটি ছেঁড়া শাড়ি পরে নিত্যপূজা ও আহ্নিক করতেন। একদিন তিনি ছেলেকে একটি গরদের শাড়ি কিনে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু বেকার নরেন্দ্রনাথের পক্ষে সেই সময় মায়ের ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব ছিল না। এতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন, যদিও আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে সাহায্য চাইতে রাজি হননি।
প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, সেই সময় দক্ষিণেশ্বরে এক ভক্ত শ্রী রামকৃষ্ণের কাছে মিছরির থালা ও একটি গরদের কাপড় নিবেদন করেন। কয়েকদিন পরে নরেন্দ্রনাথ দক্ষিণেশ্বরে এলে শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁকে কাপড়টি নিয়ে গিয়ে মাকে দিতে বলেন। কিন্তু নরেন্দ্রনাথ তা নিতে অস্বীকার করে জানান, উপার্জন করতে পারলেই তিনি নিজেই মায়ের জন্য শাড়ি কিনবেন।
এরপর শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র রামলালকে নির্দেশ দেন, নরেন্দ্রনাথ বাড়িতে না থাকলে গোপনে তাঁর মায়ের হাতে মিছরির থালা ও গরদের কাপড় পৌঁছে দিতে। পরদিন সেই নির্দেশ অনুযায়ী ভুবনেশ্বরী দেবীর হাতে উপহার পৌঁছে যায়। তিনি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেন, কীভাবে দক্ষিণেশ্বরের সাধক তাঁর মনের কথা জানতে পারলেন!
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে নরেন্দ্রনাথ দেখেন, তাঁর মা নতুন গরদের শাড়ি পরে পূজার ঘরে বসে আছেন। মুহূর্তের জন্য তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ঘটনায় তিনি গুরুর অসীম স্নেহ ও অন্তর্দৃষ্টির এক অনন্য পরিচয় উপলব্ধি করেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে এই ঘটনার বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে ভক্তমহলে এটি বিশ্বাস, করুণা এবং গুরু-শিষ্যের গভীর আত্মিক সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে আজও সমান শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোচিত হয়।

![]()

More Stories
ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ
“ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি”—বলরাম দাসের অলৌকিক রথযাত্রার লীলা
প্রাচীন মিশরের মমি তৈরির রহস্য উন্মোচন