সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: সনাতনী আচার-অনুষ্ঠান, নামসংকীর্তন এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে নদিয়ার মায়াপুর ইসকন মন্দিরে মহাসমারোহে উদযাপিত হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রার এই বিশেষ দিনগুলিতে মায়াপুরের অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দির প্রাঙ্গণে এখন অগণিত ভক্তের মিলনমেলা। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীজগন্নাথ, বলদেব এবং দেবী সুভদ্রামাতাকে কেন্দ্র করে আনন্দমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো শ্রীজগন্নাথদেবকে নিবেদন করা ‘ছপ্পান্ন ভোগ’ বা ৫৬ ভোগ। নামে ৫৬ ভোগ হলেও, বাস্তবেই রাজকীয় এই অন্নকূটে স্থান পেয়েছে দেশ-বিদেশের শতাধিক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পদ। বৈদিক রীতি ও শাস্ত্রীয় নিয়ম কঠোরভাবে মেনে ইসকনের অভিজ্ঞ রন্ধনশিল্পীরা প্রস্তুত করছেন এই বিপুল পরিমাণ ভোগ। ভাত, ডাল, নানা ধরনের সবজির তরকারি, রকমারি পিঠে-পুলি, মিষ্টি, সুস্বাদু পানীয় এবং পাশ্চাত্যের নানাবিধ পদ—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই প্রসাদে।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মহাপ্রভুর আরতি এবং ভোগ নিবেদনের পর, সেই মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে হাজার হাজার সমবেত ভক্তের মধ্যে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে ধন্য মনে করছেন নিজেদের।
শুধু প্রথাগত বৈদিক আচারই নয়, এই বিশেষ দিনগুলিতে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে ইসকন প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য পর্যটকও। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দিরে চলছে বর্ণাঢ্য ধূপ-দীপ আরতি, মনোরম নামসংকীর্তন এবং বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে প্রার্থনা। রঙিন আলো আর ফুলের সাজে সেজে ওঠা অস্থায়ী গুন্ডিচা মন্দির চত্বর বর্তমানে ভক্তদের ভক্তি আর পর্যটকদের কোলাহলে গমগম করছে।
ভক্তি, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে নদিয়ার মায়াপুর এখন এক অনন্য ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

![]()

More Stories
সংগঠিত অপরাধে লাগাম টানতে রাজ্যে এনআইএ থানা, পাশাপাশি কালীগঞ্জকাণ্ডে পুলিশের অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ
পাহাড়ে স্বস্তি: মেরামত শেষে নিউ জলপাইগুড়ি-দার্জিলিং টয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু
রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের জন্য এক ছাতার তলায় সমস্ত পরিষেবা: চালু হচ্ছে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম