বন্যা: দেখা নেই জয়ী বিজেপির, ত্রাতা সেই হেরো তৃণমূল

সোমালিয়া সংবাদ, খানাকুল: গত কয়েক দশকের মধ্যে আরামবাগ মহকুমায় এবারের বন্যা অন্যতম বিধ্বংসী রূপ নিয়েছিল। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। এখনও পর্যন্ত অসংখ্য পরিবারকে গৃহহীন হয়ে অত্যন্ত অসহায় ভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চলছে ত্রাণকার্য। পাশাপাশি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরাও। যে যেখানে যেমনভাবে পারছেন দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিনই কোন না কোনভাবে তাঁদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা হয়তো যথেষ্ট নয়, তবুও কিন্তু তাঁরা নিজেদের মতো করে সবসময়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও আরামবাগ মহকুমার চারটি বিধানসভা আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তৃণমূলের তুলনায় সেই বিজেপি বিধায়ক ও নেতাকর্মীদের এবার এই বিপর্যয়ের সময় তেমনভাবে পথে নামতে দেখা গেল না। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ কিছু কিছু জায়গায় ছুটে গেছেন, পৌঁছে দিয়েছেন ত্রাণসামগ্রী। তবে খানাকুলের বাকি বিজেপি নেতা কর্মীদের কোন দেখাই পাওয়া যায়নি। খানাকুলের পর এবার বন্যাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোঘাট বিধানসভা এলাকা। সেখানেও বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারককে হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় পরিদর্শনে দেখা গেছে। কিছু পরিবারকে তিনি ত্রিপল ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। যদিও ক্ষতির পরিমাণের বিচারে তা অতি নগন্য। সেই তুলনায় প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার প্রতিদিন নিয়ম করে দুর্গতদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরেছেন। তাঁদেরকে যতটা পেয়েছেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। আরামবাগ ও পুরশুড়া বিধানসভার বেশ কিছু এলাকাও এবারের বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। যদিও এখানকার দুই বিজেপি বিধায়ক মধুসূদন বাগ ও বিমান ঘোষকে তেমনভাবে দুর্গত মানুষ কাছে পাননি বলে অভিযোগ। বিজেপির সূত্রে জানা গেছে, বিমানবাবুর স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ থাকায় তিনি সময় দিতে পারেননি। কিন্তু এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তিনি ছাড়াও তাঁর দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা কেন দুর্গতদের পাশে দাঁড়ালেন না। আরামবাগের বিধায়ক মধুসূদন বাগকেও  তেমনভাবে দুর্গত এলাকায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। আরামবাগে দুর্গতদের  ভরসা সেই প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা, পৌর প্রশাসক স্বপন নন্দী, তৃণমূল নেতা রাজেশ চৌধুরী, পলাশ রায়ের মতো নেতারাই।  বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি যে সমস্ত বিজেপি সমর্থকরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন তাঁরাও দলের নেতাকর্মীদের এই আচরণে অত্যন্ত হতাশ।  তাঁদেরকে বিপদের সময় সাহায্যের জন্য ভরসা করতে হয়েছে সেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপরেই।

Loading