February 4, 2026

স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিশেষ উদ্যোগ

সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: স্কুল খুললেও ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা কম। লকডাউনের সময় তাদের অনেকেই নাকি পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে বিভিন্ন কাজে লেগে গেছে। কেউ মাঠে কাজ করছে, কেউ গ্যারেজে বা মুদিখানা দোকানে। তাই ওই সমস্ত স্কুল ছুটদের আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করল গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। শুক্রবার সংগঠনের ব্লক সভাপতি সৈয়দ আসিক হোসেনের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল স্কুলছুটদের খুঁজে বের করে তাদের বুঝিয়ে স্কুলে পাঠাতে বাড়িতে বাড়িতে, গ্যারেজে, মাঠে ঘুরে বেড়ালো। এই প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি পলাশ রায়, গোঘাট-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন পাল, গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি নারায়ন পাঁজা, কুমুড়সা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম মুদি প্রমূখ। এদিন তাঁরা কুমুড়সা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে স্কুলছুটদের বাবা-মায়েদের বোঝান। কথা বলেন ওই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গেও। দশম শ্রেণীতে ওঠার পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে একটি গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে কাজ করছে গোঘাটের কৌশিক পাখিরা। এদিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেন। কৌশিক তাঁদেরকে জানায়, বাড়িতে বসে থেকে তার ভালো লাগছিল না। তাই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। তার স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু এখন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে সে গাড়ির ইঞ্জিন ঠিক করার কাজ করছে। প্রতিনিধিদলের পাশে থাকার আশ্বাস পেয়ে সে জানায়, বাড়িতে গিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলবে। তবে তার ইচ্ছা আছে স্কুলে ফিরে গিয়ে আগামী দিনে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। গোঘাটের ডুমুরিয়া গ্রামের এক অভিভাবক ধনঞ্জয় মুদি বলেন, আমরা দিনমজুরের কাজ করি। প্রতিদিন সকালে কাজে বেরিয়ে যাই। ছেলেকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলি। কিন্তু সে আর যেতে চায় না। আমরাও চাই ছেলে স্কুলে যাক। সুচিত্রা মুদি নামে এক অভিভাবিকা বলেন, গত দু’বছর ভাল করে সংসার চালানো দায় হয়েছে। ছেলের কোন শখই আমরা পূরণ করতে পারিনি। তাই সেই ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজে চলে গেছে। আমরাও তো চেয়েছিলাম এই বয়সে ছেলে পড়াশোনা করুক। কোন বাবা-মা চায় পড়াশোনা ছাড়িয়ে দিয়ে ছেলেকে কাজে ঢোকাতে।  এই বিষয়ে গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি সৈয়দ আসিক হোসেন বলেন, বর্তমানে মা-মাটি-মানুষের সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সকলের জন্য বিনা খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন। বই-খাতা, পোশাক থেকে সমস্ত কিছু বিনামূল্যে দিচ্ছেন। তারপরেও যদি অর্থের অভাবে কোন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করতে না পারে তার পাশে তৃণমূল কংগ্রেস তথা  তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সবসময়ই রয়েছে। আমরা চাই এই সমস্ত ছেলেমেয়েরা আবার স্কুলমুখী হোক। তার জন্য আমরা সবরকমভাবে সাহায্য করব। লকডাউনে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের অনেকেই বিভিন্ন কাজে ঢুকে পড়েছে। কোন কোন অভিভাবক অভিভাবিকা আবার মেয়েদের বিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। আমরা ওই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে বোঝাচ্ছি। কথা বলছি তাদের অভিভাবক অভিভাবিকাদের সঙ্গেও। আশা করছি ওই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদেরকে আবার আমরা স্কুলে ফিরিয়ে দিতে পারব।

Loading