ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরল আরামবাগের ছাত্র, প্রশংসায় পঞ্চমুখ আরামবাগ সাংসদের

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: শনিবারের ভোরে আরামবাগের বৃন্দারামপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছল ইউক্রেনে মেডিকেল পড়তে যাওয়া ছাত্র দেবার্ঘ্য পোড়ে। তারপরই  কেটে গেল এই কয়েকদিনের উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মেঘ।  ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে খুশির হাওয়া পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। আর এই বিপদের সময় সর্বক্ষণ পাশে থাকার জন্য আরামবাগ সাংসদ অপরূপা পোদ্দারকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানালেন দেবার্ঘ্য থেকে শুরু করে তার বাবা-মা এবং ঠাকুমা। দেবার্ঘ্যর মা কৃষ্ণা পোড়ে জানালেন, ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের নিজেদেরকে কিছুই করতে হয়নি। যা করেছেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। অপরূপাদেবী বাড়িতে এসে আমাদেরকে আশ্বস্ত করে জানিয়ে গিয়েছিলেন, ছেলেকে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের। এরপর থেকেই তিনি প্রতি মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন। এমনকি মাঝরাতে কলকাতা বিমানবন্দরে ছেলে যখন এসে পৌছল তখনও অপরূপাদেবী সেখান হাজির থেকে ছেলেকে শুভেচ্ছা জানালেন। আমরা ওনার ভূমিকায় অভিভূত। এছাড়াও বাড়িতে প্রতিনিধি পাঠিয়ে আরামবাগ এসডিও, এসডিপিও ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা যেভাবে আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন তা কখনোই ভুলব না। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর ডাক্তারি পড়ার জন্য ইউক্রেনে পাড়ি দিয়েছিল দেবার্ঘ্য। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। হঠাৎই রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেখানে পড়তে যাওয়া ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। দেবার্ঘ্য জানায়, সে লভিভ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন আগে থেকেই তা বুঝতে পেরে অনেক বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীই নিজেদের দেশে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু সামনে পরীক্ষা থাকায় আমরা থেকে গিয়েছিলাম। তারপর হঠাৎই যুদ্ধ বেধে যায়। তবে আমাদের শহরে তেমনভাবে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। দিনে দু’বার করে সাইরেন বাজত। তখন হোস্টেলের নিচেই বাংকারের মধ্যে দিনে ঘন্টা দু’য়েক করে থাকতে হতো। আগে থেকেই জল ও খাবার প্রচুর পরিমাণে তুলে নিয়েছিলাম। তাই কখনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু প্রথমবার ফেরার চেষ্টা করে পোল্যান্ডের বর্ডারের দিকে রওনা দিয়েছিলাম। রাস্তায় এত ভিড় ও গাড়ির লম্বা লাইন যে  পৌছাতেই পারিনি। আবার হোস্টেলে ফিরে আসতে হয়েছিল। তখন একটু ভয় লেগেছিলো। ভেবেছিলাম হয়তো আর বাড়ি ফেরা হবে না। এরপর হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ২ মার্চ আমাদের জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করে। ওই বাসটি হাঙ্গেরি বর্ডারে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে বুদাপেস্ট। সেখানে একটি রাত কাটিয়ে ৪ মার্চ আমরা প্লেনে উঠি। সেখান থেকে মুম্বাই, কলকাতা হয়ে বাড়িতে। দেবার্ঘ্য জানায়, হাঙ্গেরির বর্ডার থেকে আমাদের পুরো দায়িত্ব ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা তুলে নিয়েছিলেন।  তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত দেবার্ঘ্য। সে জানায়, এখন ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে গেল। তাই এরপর কি হবে এখনই বুঝতে পারছে না। যদিও এই পরিস্থিতিতে বাড়ি ফিরতে পেরে বাবা-মা ও ঠাকুমার মুখে হাসি দেখে অনেকটা স্বস্তিতে পেয়েছে।

Loading