সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: মাত্র তিনশো থেকে চারশো মিটার রাস্তা। আর সেই রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে প্রাণ হাতে করে। রাস্তার ওপর বড় বড় গর্ত। আর সেই গর্ত জলে ভর্তি। কোথায় কতটা গভীর তা টেরই পাচ্ছেন না গাড়ি চালকরা। তার ওপর চারদিকে নুড়ি-পাথর ছড়ানো। ফলে প্রতিদিন ছোট ও মাঝারি দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। তার ওপর কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে। ঘটনাটি চাঁপাডাঙ্গা-কোতুলপুর ২নং রাজ্য সড়কের আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে পল্লীশ্রী মোড় পর্যন্ত। গত তিন দিনে কমপক্ষে আট থেকে দশটি লরি গর্তে পড়ে বিকল হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ রাস্তার উপর পড়ে থাকায় তৈরি হয়েছে যানজট। বুধবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। গর্তে পড়ে একের পর এক লরি বিকল হতে থাকে। ভোর থেকে পথে নামে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ টিম। তাঁদের তৎপরতায় ও প্রচেষ্টায় একের পর এক যানবাহনকে কোনরকমে পার করানো হয়। কিন্তু তারই মধ্যে একটি চায়ের দোকানের উপর উল্টে যায় ধানবোঝাই একটি ট্রাক্টর। ঘটনাচক্রে ওই সময় দোকানটি বন্ধ ছিল। ফলে দোকানের মধ্যে কোন মানুষজন ছিলেন না। তবে দোকান ঘর এবং আসবাবপত্র ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু দোকান খোলা থাকলে আরও বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেতে পারত। ওই জায়গাতেই এক স্কুটি চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির চাকায় ঢুকে গেলেন।

যদিও লরি চালকের তৎপরতায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী দৌলতপুরের পলাশ হালদার, গোঘাটের রবীন সাঁতরা প্রমুখরা একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, প্রায় দীর্ঘ দু’মাসের উপর রাস্তাটি এরকম বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তবুও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। এদিন তো অবস্থা আরও ভয়াবহ। অনেক দূরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর হেঁটে রাস্তা পার হয়ে আবার বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছতে হচ্ছে। স্থানীয় এক গৃহবধূ লক্ষ্মী মণ্ডল বলেন, দোকানে কেউ না থাকায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। নাহলে যে কি হত ভেবেই ভয় লাগছে। তবে গরিব মানুষের দোকানটি ভেঙে একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই রাস্তা সংস্কার করা। অর্চনা অধিকারী নামে আর এক মহিলা এদিন তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। তবু কেন এই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানান।

![]()

More Stories
ফুরফুরা পঞ্চায়েতে জট কাটল, ৫ বিজয়ীকে শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
সহযোদ্ধার বিদায়, নিভে গেল এক নীরব শক্তির প্রদীপ—প্রয়াত গোঘাটের মনোরঞ্জন পালের স্ত্রী শোভা পাল
ভুলতে বসা সুরের মানুষ— শেষ গান ‘ওগো বন্ধু বিদায়’ আজও ভাসায় চোখের জল”