February 5, 2026

আরামবাগে গরমে হু হু করে বিক্রি হচ্ছে ট্যাপ কল লাগানো কুঁজো ও মাটির কলসি। খুশি বিক্রেতারা

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: মাঝে মাঝে কালবৈশাখীর দেখা মিললেও দিনভর ভ্যাপসা গরম থেকে রেহাই মিলছে না সাধারণ মানুষের। আর সেই গরমই হাসি ফুটিয়েছে কুঁজো এবং মাটির কলসি বিক্রেতাদের। গত কয়েক বছরের মধ‍্যে এবছর একেবারে হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছে ট্যাপকল লাগানো মাটির কলসি ও কুঁজো। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এত বেশি বিক্রি কবে হয়েছে তাঁরা মনে করতে পারছেন না। কুঁজোর থেকেও বেশি বিক্রি হচ্ছে ট্যাপকল লাগানো মাটির কলসি অর্থাৎ জালা। আরামবাগ শহরের দৌলতপুর কুমোর পাড়ায় এ ধরনের ট্যাপকল লাগানো মাটির কলসি বিক্রি করেন ললিত পাল। তাঁর কাছে ট্যাপকল লাগানো বিভিন্ন আকৃতির মাটির কলসি রয়েছে। ৫ লিটার, ১০ লিটার, ৩০ লিটার, ৫০ লিটার পর্যন্ত তিনি এধরনের কলসি বিক্রি করছেন। তিনি জানালেন,  বাগনান, দত্তপুকুর, মায়াপুর থেকে তাঁরা এ ধরনের কলসি নিয়ে আসেন। তারপর বাড়িতে নিজেরাই ট্যাপকল লাগান। কলসিগুলির দাম আকৃতি অনুযায়ী ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তিনি জানালেন, প্রতিদিন ১৫-২০ টা করে বিক্রি হচ্ছে যা এর আগে কখনও হয়নি। ললিতবাবু আরও জানান, তাঁরা নিজেরা ট্যাপকল লাগানোর জন্য অনেক কম দামে বিক্রি করতে পারেন। অন্যান্য জায়গায় এর ওপর  মজুরি খরচ লেগে যায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে উঠেছেন। আর তাই জল ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এ ধরনের কলসি আয়রন শুষে নেওয়ার জন্য মানুষ এগুলো বেশি পছন্দ করছেন। আরামবাগ পুরাতন বাজারে মাটির জিনিস বিক্রি করেন সুরজিৎ পাত্র। তিনি বলেন, এই মরসুমে এক ট্রাক মাটির কলসি বিক্রির জন্য এনেছিলাম। বৈশাখ মাসের মধ্যেই বেশিরভাগ বিক্রি হয়ে গেছে। এবছর এত বিক্রি হবে জানলে আরও অনেক বেশি করে তুলে রাখতাম।  আরামবাগের আরান্ডি থেকে ট্যাপকল লাগানো মাটির কলসি কিনতে এসেছিলেন বাবাই সরকার। তিনি বলেন, বাড়িতে পুরানো একটা ছিল। সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আবার কিনে নিয়ে যাচ্ছি। আসলে মাটির কলসির জল এত মিষ্টি যে অন্য জল আর খেতে ভাল লাগে না। স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত বিক্রির ফলে সমস্ত দোকানদারই খুশি। অন্যান্য দোকানদাররাও জানালেন, যখন থেকে বেশি গরম পড়েছে তখন থেকেই বিক্রি বেড়ছে। আর সেই রেশ এখনও চলছে। আর তার জেরেই হাসি ফুটেছে মাটির কলসি ও কুঁজো বিক্রেতাদের মুখে।

Loading