সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: যাঁরা এখনও দুয়ারে সরকার থেকে বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করতে পারেননি তাঁদের পাশে দাঁড়ালো গোঘাট-১ নং ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। তারা এবার ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সমস্যার সমাধানে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। এর জন্য চালু করেছে একটি হেল্পলাইন নম্বর-৯৯৩২৬৮৩৯১৩ । এই নম্বরে ফোন করলেই তৃণমূল ছাত্র নেতা-কর্মীরা সেই পরিবারে পৌঁছে যাচ্ছেন। তাঁদের কি কি সমস্যা, কিভাবে তার সমাধান করা যাবে, সেব্যাপারে ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আর এই উদ্যোগে সাড়াও মিলছে বেশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই উদ্যোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনার পর ওই হেল্পলাইন নম্বরে দুদিনে অসংখ্য ফোন এসেছ। কারও এখনও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হয়নি, কারও রেশন কার্ডের সমস্যা, কেউ আবার কৃষক বন্ধুর সুবিধা পেতে চান। কিন্তু দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে করানোর মত পরিস্থিতি নেই। তাই তাঁরা এইসব ছাত্রনেতাদের সাহায্য চান। আর এই ছাত্রনেতারাও সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের পরিবারে পৌঁছে যাচ্ছেন।
সমস্যা সমাধান করে দিচ্ছেন। আর এই ঘটনায় রীতিমতো অভিভূত গ্রামের মানুষ। গোঘাট-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি সৈয়দ আসিক হোসেন বলেন, এই ব্লক সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকায়। গ্রামের বহু মানুষ কিভাবে আবেদন করতে হয়, কোথায় যেতে হবে তা জানেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং দলীয়ভাবে বারবার প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু তবুও খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা গেছে কিছু কিছু মানুষ এখনও দুয়ারে সরকারে পৌঁছতে পারেননি। তাই তাঁদের কথা ভেবেই আমরা এই হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছি। মঙ্গলবার বিকেলে পথসভার মাধ্যমে তা এলাকার মানুষকে জানিয়েছি। এছাড়াও ব্যানার ঝুলিয়ে ওই নম্বর সকলকে জানানো হচ্ছে। অনেকেই ফোন করছেন। আমরাও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বুধবার গোঘাটের ছিলামপুর গ্রামের দিনমজুর শেখ রবিয়াল ওই হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন করেছিলেন। তিনি পেটের সমস্যায় প্রায় দু’মাস ধরে ভুগছেন। কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার করিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। এর জন্য বেশ কয়েক হাজার টাকা লাগবে।
কিন্তু দিনমজুর রবিয়ালের পক্ষে সেই টাকা যোগাড় করার ক্ষমতা নেই। তাঁর স্ত্রী সামসু খাতুন বলেন, আমাদের এক টুকরো জমিও নেই। স্বামী অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাত। কিন্তু গত দু’মাস তাও পারেন না। তাই রোগীকে বাড়িতে এনে ফেলে রাখতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ আমরা জানতে পারি একটা ফোন নম্বরে ফোন করলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়ে দেবে। তাই ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে ছিলাম। সন্ধেবেলা দেখি তৃণমূল ছাত্র নেতা আসিফ হোসেন সরকারি অফিসের কর্মীদের নিয়ে হাজির হয়ে গেছেন। বাড়িতে এসেই আমার স্বামীসহ পরিবারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়ে দিয়ে গেলেন। আমরা খুবই খুশি। এবার আর চিকিৎসার কোনও অসুবিধা রইল না। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে অনেক ধন্যবাদ। উল্লেখ্য গত বিধানসভা নির্বাচনে গোঘাট থেকে তৃণমূলের টিকিটে মানস মজুমদার বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু লোকসভা ভোটে এই বিধানসভা এলাকায় বিজেপি ভালো ফল করে। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন ধরে রাখতে তৃণমূলের পাশাপাশি তাদের শাখা সংগঠনগুলিও মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে চলেছে। নির্বাচনের ময়দানে বিরোধী দলগুলোকে তারা একটুও জায়গা ছেড়ে দিতে নারাজ। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি জনসংযোগ অন্যতম হাতিয়ার করে তুলেছে তৃণমূল ও তার শাখা সংগঠনগুলি।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত