সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার শাসনের খড়িবাড়ি এলাকা থেকে আল কায়দা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করেছে দু’জনকে। তাদের কাছ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার বার্তা দেওয়া নথি মিলেছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ধৃত কাজী আহসান উল্লাহ ওরফে হাসানের বাড়ি আরামবাগের আরান্ডী- ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামতা গ্রামে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে সে হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায় থাকে বলে তার পরিবারের লোকের দাবি। গ্রামবাসীদের কাছে হাসান মেধাবী ও ভাল ছেলে হিসাবেই পরিচিত। হাসানরা তিন ভাই ও এক বোন। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে হাসান বড়। বাকি দুই ভাই বাইরে থাকে। বাবা বর্ধমানের কুসুমগ্রামে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। গ্রামের বাড়িতে মা ফরিদা বিবি একাই থাকেন। তিনি হাঁটুর ব্যথায় অসুস্থ। মা জানান, ছেলেবেলা থেকেই হাসান খুব মেধাবী ছিল। ক্লাস ফোর পর্যন্ত গ্রামে পড়াশোনার পর বর্ধমানের একটি মাদ্রাসাতে আরবি নিয়ে পড়াশোনা করে। এরপর বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে মৌলানা হয়। কলকাতার দিকে কয়েকটি মসজিদে ইমামেরও কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। এছাড়াও কখনও দর্জির কাজ, আবার কখনও পুরনো গাড়ি কেনাবেচার কাজও করতো হাসান। বছর পাঁচেক আগে বাড়ির অমতে নিজের পছন্দমতো মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও গত দু’বছরে সেই সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল। তাই মাঝে মাঝে সামতার বাড়িতে আসতো। জুলাই মাসে কুরবানির নামাজের সময় স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে দু’দিন কাটিয়ে গিয়েছিল। মা বলেন, আমি কিছুই জানি না। আপনাদের মুখ থেকেই প্রথম শুনছি। তবে আমার ছেলে খারাপ কাজ করতে পারে বলে মনে করি না। ফোনে যোগাযোগ করলে বাবা অন্য প্রান্ত থেকে বললেন, শুনেছি দিনাজপুরের একটা লোককে বাড়িতে থাকতে দেওয়ার জন্যই নাকি ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ছেলেকে পরিকল্পনামাফিক ফাঁসানো হয়েছে। দেশবিরোধী কোন কাজের সঙ্গে সে যুক্ত থাকতে পারে না। অন্যদিকে গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী কাজী মোতাউল হক বলেন, এলাকায় হাসানের সুনাম রয়েছে, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে জড়ানো হয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি তো আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না। ও অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। আরবি নিয়ে পড়াশোনা করেছে। ইমামের কাজও করেছে। আর এক প্রতিবেশী কাজী নাসির বলেন, আমার থেকে এক-দু বছরের বড়। প্রায় একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছি। খেলাধুলাও করেছি। ভেবে উঠতে পারছি না কেন তাকে ধরা হল। বিশ্বাসও হচ্ছে না। তবে গ্রামেরই এক যুবক সেখ শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্ধুত্ব ছিল। মাঝেমধ্যে দেখা হলে কথা হতো। শুনে খুব খারাপ লাগছে। ঘটনাটা সত্যি কিনা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। যদি সত্যি হয় তাহলে খুবই অন্যায় করেছে। সেটা মেনে নিতে পারব না।
![]()

More Stories
ভাইরাল গেজেট ঘিরে চাঞ্চল্য: ভাঙল কি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা?
দেশের সেবক থেকে রাজনৈতিক সহযোদ্ধা: গুলিতে থামল চন্দ্রনাথের পথচলা
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন মুখ: একের পর এক হামলায় আপ্ত সহায়কেরা