সোমালিয়া ওয়েব নিউজ: পদবি ছিল ‘ঘোষাল’ কিন্তু সেটাই হয়ে গেলো ‘মণ্ডল’ । তার পেছনে আছে মজার কাহিনী। তখন ছিল ইংরেজ আমল। গ্রামের ছোটখাটো বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে বসে মিটিয়ে দিত গ্রামেরই কোনো প্রভাবশালী পরিবার। সাধারণত তাদের ‘মোড়ল’ বলা হতো। পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরের এথোড়া গ্রামের ‘মোড়ল’ ছিল এই ঘোষাল পরিবার। গ্রামের সরল সাদাসিদে মানুষরা তাদের ‘মোড়ল’ বলে ডাকত। কালক্রমে ‘ঘোষাল’ পদবীটা বদলে গিয়ে হয়ে গেলো’মোড়ল’ অর্থাৎ ‘মণ্ডল’। গ্রামের মানুষের আদরের ডাকটা আজও বংশপরম্পরায় বহন করে চলেছে ঘোষাল পরিবার। গ্রামে তখন আরও চারটে দুর্গাপুজো হলেও এই ‘মোড়ল’ বাড়ির কোনো দুর্গাপুজো ছিল না। অথচ গ্রামের মানুষরা তাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা করত। ফলে বাড়ির মেয়ে-বৌরা হুট করে পাড়ার ঠাকুর দেখতে যেতে কিছুটা সংকোচ বোধ করত। তাছাড়া তারা ঠাকুর তলা দিয়ে গেলে ঠাকুর দেখতে আসা অন্যরা তাদের জায়গা ছেড়ে দিত। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের অস্বস্তি লাগত। সেই অস্বস্তি দূর করার জন্য বাংলার ১২২৭ সালে পরিবারের দুই সদস্য সতীশ মণ্ডল ও রাধানাথ মণ্ডল নিজেদের পরিবারে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। সবার সাহায্য নিয়ে গড়ে ওঠে পাথরের মন্দির। কালের নিয়মে মন্দির জীর্ণ হয়ে পড়লে সেটা সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আজ থেকে বছর তেত্রিশ আগে সেই সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তখনই পাওয়া যায় একটি পাথর যেখানে সাল ও দুই সদস্যের নাম পাওয়া যায়। তার থেকেই অনুমান করা হয় ২০২ বছর আগে ‘মোড়ল’ বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল।
![]()

More Stories
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ সনাতনী স্বাস্থ্য সেনার
দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ নীতিন নবীনের
রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজ থেকে আজকের ব্রাহ্মসমাজ—২০০ বছরের যাত্রা