February 4, 2026

পাঁচালির সুরে ভরে উঠল লক্ষ্মীপুজোর রাত

সোমালিয়া সংবাদ, আরামবাগ: রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধেয় পাড়ায় পাড়ায় লক্ষ্মীর পাঁচালী গান ফিরে এল। শুধুমাত্র গ্রামগুলিতেই নয়, আরামবাগ শহরের বহু বাড়িই পাঁচালীর সুরে ভরে উঠল। শহর থেকে গ্রামে আধুনিকতার ছোঁয়ায় লক্ষ্মীর পাঁচালী প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবুও গ্রামের দিকে এখনও প্রতি বৃহস্পতিবার অনেক বাড়িতেই লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করা হয়। যদিও দিন দিন সেই সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। কিন্তু অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও লক্ষ্মীপুজোর সন্ধেয় আরামবাগের  বিভিন্ন বাড়িতেই পাঁচালী পাঠ করতে দেখা যায়। যে সমস্ত বাড়িতে মূর্তি তুলে পুজো হচ্ছে শুধু সেখানেই নয়, যেখানে ঘটে বা পটে পুজো হচ্ছে সেখানেও পাঁচালী পাঠ করা হয়। খানাকুলের রাজহাটির গৃহবধূ তনুশ্রী ব‍্যানার্জি বলেন, ‘‌প্রতি বৃহস্পতিবারই আমাদের বাড়িতে লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়া হয়। তবে লক্ষ্মীপুজোর সন্ধেয় সেই পাঠ চলে দীর্ঘক্ষণ ধরে। একই কথা শোনালেন আরামবাগ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবপল্লীর বাসিন্দা পূজা মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘‌ বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে পাঁচালী পাঠ করতাম। প্রতি বৃহস্পতিবার পাঁচালী পাঠ করা হয়। কিন্তু কোজাগরী লক্ষীপুজোর দিন অনেক বেশি গৃহস্থের বাড়িতে পাঁচালী পাঠ করতে দেখা যায়। এখানে শ্বশুরবাড়িতেও নিয়মিত পাঁচালী পাঠ করা হয়। এদিনও যথারীতি সুর করে করে পাঁচালী পড়া হয়েছে’‌  অন্যদিকে আরামবাগ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুস্তক বিক্রেতা জীবন প্রতিহার বলেন,‘‌সারা বছর পাঁচালির বই বিক্রি হলেও লক্ষ্মীপুজোর আগে এই বই বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। শুধুমাত্র এই শনি-রবিবার বেণীমাধব শীলের ‘‌লক্ষ্মী পাঁচালী’‌৩৫টি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ‘‌লক্ষ্মী চরিত্র’‌ বিক্রি হয়েছে গোটা দশেক। যা অন্যান্য বছরের থেকে অনেক বেশি।’‌ আরামবাগের  অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজকুমার দত্ত বলেন,‘‌বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে পাঁচালী পাঠ ও শোনার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। ফলে এই লোকসংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এর মাধুর্য থেকে আগামী প্রজন্ম যে বঞ্চিত হবে কোন সন্দেহ নেই।’‌ 

Loading