February 4, 2026

স্কুলের অভিনব উদ্যোগ। ‘রোল কলে’ নতুনত্ব। ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘প্রেজেন্ট স্যার’- এর বদলে ফল, ফুল, জেলা, রাজ্য, দেশের নাম

সোমালিয়া সংবাদ, খানাকুল: ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী ও বইমুখী করে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন খানাকুলের তাঁতিশাল গ্রাম পঞ্চায়েতের মাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মুখার্জি। ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা খাতায় নাম তোলা অর্থাৎ রোল কল করার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি জানানো অর্থাৎ সাড়া দেওয়ার পদ্ধতিটাই পাল্টে দিলেন তিনি। আর এই নতুন পদ্ধতিতে খুদে পড়ুয়ারা শুধুমাত্র খুশিই নয়, বিষয়টাকে রীতিমতো উপভোগ করছে বলে জানালো তারা নিজেরাই। সাধারণত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে রোল কল করার সময় ছাত্রছাত্রীরা ‘প্রেজেন্ট স্যার’,  ‘ইয়েস স্যার’ কিংবা ‘হাজির’ বা ‘উপস্থিত’ বলে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই রীতি চলে আসছে। কিন্তু দেবাশিসবাবু সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন কিছু উপহার দিতে চেষ্টা করেন। আর সেই ভাবনা থেকে তিনি এই রোল কলের পদ্ধতিটাই পাল্টে দেন। ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘প্রেজেন্ট স্যার’-এর বদলে ছাত্রছাত্রীরা এখন ফল-ফুল, গাছ, মনীষী, জেলা, রাজ্য, দেশ ইত্যাদির নাম বলছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মুখার্জি বলেন, রোল নম্বর বললেই প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা ফল-ফুলের নাম, প্রথম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা গাছের নাম, দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা মনীষীদের নাম, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা জেলার নাম, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা রাজ্যের নাম এবং পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা দেশের নাম দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানাচ্ছে। তবে সব ছাত্রছাত্রী একই নাম বলছে না। প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট নাম বরাদ্দ করা রয়েছে। যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী তার সেই নামটি বলতে ভুলে যায় তাহলে পাশের ছাত্রছাত্রীরা সেটা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ওই শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা জেলা, রাজ্য, দেশ, মনীষী, গাছ, ফল-ফুল ইত্যাদি সম্পর্কে খুব অল্পবয়স থেকেই জেনে যাচ্ছে। দেবাশিসবাবু আরও বলেন, আসলে বাচ্চারা সবসময়ই নতুন কিছু পেতে পছন্দ করে। ওরা একটা রঙিন জগত খোঁজে। আমরা ছোটবেলায় যেমন রোল কলে ‘ বা প্রেজেন্ট স্যার’ ‘ইয়েস স্যার’ বলতাম এখনও ঠিক সেই  একইরকমভাবে রোল কল চলে আসছে। তাই সেই প্রচলিত ধারাটা পাল্টে দিতেই ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেড়ে গেছে।

স্কুলের সহশিক্ষক সঞ্জয় পান বলেন, এই পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেক উৎসাহ বেড়ে গেছে। এতে তারা যেমন আনন্দ পাচ্ছে তেমনি ওই সময় ওই সমস্ত বিষয় বারবার শুনতে শুনতে সেগুলি ভালোভাবে শিখেও যাচ্ছে। ওদের মধ্যে একঘেয়েমি দূর হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পঞ্চম শ্রেণীর দুই ছাত্রছাত্রী রোহন মালিক ও সোলাঙ্কি বাগ জানায়, মাস দুয়েক ধরে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে। আমাদের খুব ভাল লাগছে। তবে প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মুখার্জি এছাড়াও শিক্ষাকে আরও সহজ করে তুলতে স্কুলকে সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। দেওয়ালে দেওয়ালে মনীষীদের ছবি, নামতা, বিভিন্ন সংখ্যা, স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ থেকে শুরু করে যুক্তাক্ষর, ফল-ফুল ইত্যাদির নাম সবকিছু ছবি ও লেখার মাধ্যমে দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্কুলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরাও।

Loading