সোমালিয়া সংবাদ, গোঘাট: দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের পঠনপাঠনের ক্ষতি হয়েছে। সেইসঙ্গে স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থেকেও দূরে থাকতে হয়েছে। ফলে তাদের মানসিক বিকাশেরও অভাব ঘটেছে। যদিও বা অনলাইনে পড়াশোনা চালানো হয়েছে তাও যথেষ্ট নয়। কারণ অফলাইনের মতো পড়াশোনা কখনও অনলাইন হতে পারে না। পাশাপাশি বহু অভিভাবক-অভিভাবিকাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনও ছিল না। ফলে এইসব বাড়ির ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর সেসব কথা ভেবেই এক অভিনব ব্যবস্থা করেছে গোঘাটের বেঙ্গাই শরৎ বিদ্যাপীঠ। প্রাথমিক এই বেসরকারী স্কুলটি এবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিজেদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পড়ানো শুরু করেছে। আর এই ঘটনায় ভীষণই খুশি অভিভাবক থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রী সকলেই। এই স্কুলে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। বর্তমানে ছাত্রসংখ্যা ৩৩২ জন। ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ১৮৭ জন ছাত্র ও ১৪৫ জন ছাত্রী পড়াশোনা করে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ১৭ জন। ১৬ জন শিক্ষক, ১ জন শিক্ষিকা। ওই স্কুলে বেঙ্গাই গ্রাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রতনপুর, গোলপুর, গোবিন্দপুর, কাঁটালি, সামন্তখণ্ড, কামারপুকুর, মান্দারণ সহ একাধিক গ্রাম থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ অভিভাবকদের মোটরসাইকেলে, কেউ আবার পুলকারের মাধ্যমে এই স্কুলে পড়াশোনা করতে আসত। কিন্তু করোনার জন্য গত বছরের মার্চ মাস থেকে স্কুলে পঠন পাঠন বন্ধ। তাই এবার অভিভাবক, স্কুল পরিচালন সমিতি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন এবার গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাছাকাছি এলাকার খুব কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নিয়ে পঠন-পাঠন চলবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম মুখার্জী জানান, আশেপাশের মোট ৫২ টি গ্রাম থেকে এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা পড়ে । তাই তাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন গ্রামে কুড়িটি জায়গায় পাঠশালার মত ক্যাম্প খোলা হয়েছে। কোথাও দুর্গা দালান, কোথাও ক্লাবে, আবার কোথাও বা কারও ব্যক্তিগত বাড়িতে। ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পড়ানো হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে। এছাড়াও মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও যেমন ভাগাভাগি করে পড়ানো হচ্ছে, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সোম থেকে শুক্রবার ওই কুড়িটি পাঠশালায় পড়াচ্ছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সপ্তাহে দুদিন করে পঠন-পাঠন চলছে। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, গত ন মাস অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হয়েছিল। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের ব্যাপারে কাউকে কোনও চাপ দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক অভিভাবক অভিভাবিকা তাঁদের ক্ষমতা মত বেতন দিয়েছেন। কিন্তু সকল অভিভাবকের অ্যান্ড্রয়েড ফোন না থাকায় অনেকেই অসুবিধা পড়েছেন। তাই সকল ছাত্র-ছাত্রীর কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওই স্কুলের কেজি টু-এর ছাত্র কৃশানু ভট্টাচার্যের মা কৃপা ভট্টাচার্য বলেন, একটি মারুতি ভ্যানের মাধ্যমে আমার ছেলেকে দশ-বারো জন অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে স্কুলে পাঠাতাম। কিন্তু করোনার ভয়ের ফলে আর আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠায় না। এদিকে মোবাইলের মাধ্যমে পড়াশোনা ঠিক হচ্ছিল না। মোবাইলের সামনে বসে পড়তে চাইতো না আমার ছেলে। দুষ্টুমি করে বেড়াতো। এখন আমাদের গ্রামেই পাঠশালা খোলায় আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে। আমার ছেলে ভালো পড়াশোনা করতে পারছে। শিক্ষকদের সামনে দেখে তারা কিছুটা ভয় ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করছে। আর এক অভিভাবিকা ফাল্গুনী বটব্যাল জানান, তাঁর ছেলে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে তেমন ভালো পড়াশোনা হচ্ছিল না। তাই শিক্ষক মহাশয়রা গ্রামে এসে পড়ানো শুরু করায় খুব ভালো হয়েছে। এতে ভীষণ উপকার হবে । স্কুলের কর্ণধার দীপক মুখার্জী জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার কথা ভেবেই ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত