সোমালিয়া সংবাদ, উত্তরপাড়া: মিছিল, পাল্টা মিছিলের পর, এবার স্লোগান, পাল্টা স্লোগানের লড়াই শুরু হয়ে গেল। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কে কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন এযেন তার জন্য জোরদার লড়াই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জনসভাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপির লড়াই এখন প্রকাশ্যে। একদল যেখানে আজকে সভা করছে, কয়েকদিনের মধ্যেই অন্যদল সেই জায়গায় পাল্টা সভা করছে। এক জায়গায় রোড শো হলে, অন্যদল আবার কয়েকদিনের মধ্যেই সেই জায়গায় রোড শো করছে। এরকম লড়াই আগেও ছিল। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই লড়াই যেন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরকমই পরিস্থিতিতে রবিবার উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকায় মিছিল করল উত্তরপাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস। বিজেপির জনবিরোধী নীতি এবং কেন্দ্রের কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃত্বে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। এছাড়াও ছিলেন তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব ও উত্তরপাড়ার বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এদিন সকাল সাড়ে দশটায় উত্তরপাড়া কলেজ মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। শেষ হয় উত্তরপাড়া ধরসা পেট্রোল পাম্প এলাকায়। এই মিছিল থেকে কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে তোপ দাগা হয়। পাশাপাশি সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি এদিন আক্রমণাত্মক আওয়াজ তোলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুঁঁড়িয়ে দাও’, ‘মীরজাফর প্রবীর ঘোষালের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুঁঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি। স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠলো এলাকা। এইরকম আক্রমণাত্মক স্লোগানে এলাকায় রীতিমত জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে এদিন সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, অভিষেক যা বলেছে ঠিক বলেছে, আমি সমর্থন করি। কারণ মানুষের সহ্য করার সীমা থাকে। আর কাঁথির মেজবাবু চোর হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তাকে গ্রেফতার করছে না, দাবী শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি, নাড্ডা এদের উচিত বাঙালি পদবী গ্রহণ করা যদিও এরা বাঙালি বিদ্বেষী। একই সাথে বিজেপিতে সদ্য যোগ দেওয়া উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ষকে গোবর জল দিয়ে শুদ্ধ করার নিদান দেন। পাশাপাশি হুমকি দেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কে। শুধু বিজেপি নেতৃত্বের সমালোচনা নয়, একই সাথে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। যদিও এ বিষয়ে উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল জানান, আমরা নোংরা রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। তবে কল্যাণ ব্যানার্জির সাথে মিছিলে যারা হাঁটছে তাঁরাই আমার সাথে রোজ যোগাযোগ রাখছেন। ভোটবাক্সে সবাই সব কিছুর উত্তর পেয়ে যাবে। তবে প্রবীর ঘোষালের এই মন্তব্যে একটা প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠল যে কল্যাণ ব্যানার্জির সাথে থাকা কারা বিজেপি দলের সাথে যোগাযোগ রাখছে? যদি প্রবীরবাবুুুর কথা সত্য হয়, তাহলে তৃণমূল সেই সমস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেে না পারলে আগামীদিনে এর ফল মারাত্মক হতে পারে।
![]()

More Stories
আরামবাগ শহরজুড়ে বেহাল রাস্তা: গর্ত, পাথর উঠে বিপজ্জনক চলাচল—দুর্ঘটনার আশঙ্কা রামকৃষ্ণ সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ, মার্চের মধ্যে কাজ শেষের আশ্বাস পিডব্লিউডি-র
আরামবাগে টেরাকোটার প্রাচীন মন্দিরগুলি ধ্বংসের মুখে
খানাকুলের গর্ব প্রদীপ্ত বাগ: ডব্লিউবিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ডিএসপি পদে মনোনীত